ঢাকা মঙ্গলবার ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৪শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রচ্ছদ অপরাধ ও অনধিকার কোটি টাকার ভবন ১ লাখে নিলাম, রাজস্ব হারালো সরকার

কোটি টাকার ভবন ১ লাখে নিলাম, রাজস্ব হারালো সরকার

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিলামের ১০ ভবনের টেন্ডার একাই নিজ নামে করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনগুলি ও মালামালসহ নামমাত্র মূল্যে নিলামে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।

জানা যায়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার দশটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন পাকা ভবন, টিন সেট ভবন, বাউন্ডারি ওয়াল এবং ওয়াশরুমের নিলামের আয়োজন করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফওজিয়া আক্তার।

গত ১৪ অক্টোবর নিলামের চিঠি ইস্যু করেন তিনি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে নিলামের ওই বিজ্ঞপ্তিটি কোনো গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, কিংবা দাপ্তরিকভাবে প্রচার করিনি। এ ছাড়া জনসাধারণের অবগতির জন্য মাইকিংও করা হয়নি।

বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার একদিন পর তড়িঘড়ি করে ১৬ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নামমাত্র ঠিকাদারদের উপস্থিতিতে নিলাম সম্পন্ন করা হয়।

অনুষ্ঠিত ওই নিলামে প্রাক্কলিত মূল্যের ২০০ থেকে ৫০০ টাকা বাড়তি দামে সবগুলি নিলাম বুড়িচং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেনকে দিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে ওই নিলামে অংশগ্রহণ করতে আসা কিছু সংখ্যক ঠিকাদারকে উপজেলায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

বুড়িচং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি সোহেল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘কাউকে কিছু না জানিয়ে গোপনে নিলামের মাধ্যমে সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেনকে কাজ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা চাই সকলের সম্মিলিতভাবে এ কাজ বণ্টন করা হোক।’

তারেক জামান নামে আরও একজন ঠিকাদার বলেন, ‘তারা কয়েকজন নিলামে অংশগ্রহণ করার জন্য উপজেলা গেইটে এসেছিলেন। সেখানে তাদেরকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে, তারা উপজেলায় প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যায়।’

এই দুটি ভবনের নিলামের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৩০১ টাকা। নিলামে এই ভবনটি বিক্রি করা হয় ২৩ হাজার ৭০০ টাকায়। অথচ ২০০৬ সালের শেষের দিকে এই ভবনগুলো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল।

কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এই ভবনগুলি নামমাত্র মূল্যে নিলামে বিক্রি করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে শংকুচাইল কলেজের সদস্য মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, ‘মোটেও এ ধরনের দাম ঠিক হয়নি। যারা অন্ধ, বোবা, বুদ্ধিহীন তারাও বুঝবে দুটি ভবনের দাম ২৩ হাজার ১০০ টাকা নয়। শুধুমাত্র একটি ভবনের ছাদের রডগুলো দেড় লক্ষ টাকার উপরে বিক্রি করা যাবে। এ কাজগুলি যারা করেছেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।’
ভবনগুলোর দাম নির্ণয় ও নিলাম প্রক্রিয়া বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফওজিয়া আক্তারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, ভবনগুলির মূল্য নির্ধারণ করা হয় উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের মাধ্যমে, তারা বলতে পারবে কীভাবে দাম নির্ধারণ করেছেন। নিলাম প্রক্রিয়ার প্রচারণার বিষয়ে নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। পত্রিকা কিংবা মাইকিং করার কোনো নির্দেশ ছিল না তাই করা হয়নি।’

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সায়ীদ জানান, বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী ভবনগুলোর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নিলামের বিষয়ে শিক্ষা অফিস প্রচার-প্রচারণা কিংবা বাকি কার্যক্রম করার কথা।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি আনোয়ারুল হক জানান, দলের পদ-পদবী দেওয়া হয়েছে মানবতার সেবা করার জন্য। কোনো প্রকার টেন্ডারবাজি চাঁদাবাজির সাথে যদি কেউ জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে দল থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 FacebookTwitterPinterestEmail

অনুসন্ধান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (তুহিন)

নির্বাহী সম্পাদক

সোনিয়া রহমান

অফিসঃ

৪৯ মতিঝিল (৮ম তলা), শাপলা ভবন, শাপলা চত্বর, ঢাকা - ১০০০

ই-মেইলঃ

rightwayciezs@gmail.com

টেলিফোনঃ

+৮৮ ০১৭১২-৭৭৭ ৩৬৩

মার্কেটিংঃ

+৮৮ ০১৯৪৮- ৯০০ ৯১১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব rightwaynews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত