যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্যেই ইরানের রাজধানী তেহরান এবং এর পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের খবর এসেছে। স্থানীয় ব্লগার ওয়াহিদ জানিয়েছেন, রবিবার (২২ মার্চ) কিছুক্ষণ আগে তেহরানের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ অনুভূত হয়েছে। বিস্ফোরণের আওতায় পারদিস শহরতলী এবং কাছের শহর দামাভান্দ রয়েছে। অন্য একটি ব্লগার গ্রুপ ‘মামলেকাতে’ দামাভান্দের কাছে অন্তত তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে।
এই বিস্ফোরণের খবর এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইসরায়েল নতুন করে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার ঘোষণা দিয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, যে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি না খুলে দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে আঘাত করা হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপি জানাচ্ছে, ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দামাভান্দ কেন্দ্র (২,৮৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতা), কেরমান কেন্দ্র (১,৯১০ মেগাওয়াট) এবং রামিন স্টিম পাওয়ার প্ল্যান্ট (১,৮৯০ মেগাওয়াট)। এছাড়া, দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে অবস্থিত একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বুশেহর থেকে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।
আল-জাজিরার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইতিমধ্যে ২০০টিরও বেশি শহরে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং আরও বহু জন আহত হয়েছে।
সংঘাত কেবল সামরিক সদর দপ্তর, থানার ভবন বা সরকারি সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; আবাসিক এলাকা, সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের বাড়িঘর, অ্যাপার্টমেন্ট, স্কুল, হাসপাতাল, এমনকি রেড ক্রিসেন্টের ভবনও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
