ঈদুল ফিতর মানেই বলিউড তারকা সালমান খান-এর ভক্তদের জন্য এক বিশেষ দিন। প্রতি বছরের মতো এবারও মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় অবস্থিত তার বাসভবন ‘গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট’-এর সামনে ভিড় জমালেন শত শত ভক্ত-অনুরাগী। প্রিয় তারকার এক ঝলক দেখার আশায় সকাল থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন তারা। শনিবার সকাল থেকে অ্যাপার্টমেন্টের সামনে জমে ওঠে উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ হাতে পোস্টার, কেউবা মোবাইল ক্যামেরা প্রস্তুত রেখে অপেক্ষা করছিলেন।
অবশেষে যখন বারান্দায় এসে দাঁড়ান সালমান, তখন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে উপস্থিত জনতা। হাত নাড়া, চিৎকার, উড়ন্ত চুমু—সব মিলিয়ে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আবেগঘন ও প্রাণবন্ত। শুধু সালমান খানই নন, তার সঙ্গে বারান্দায় উপস্থিত ছিলেন তার বাবা সেলিম খান, মা সালমা খান, ভাই সোহেল খান এবং দুই বোন অর্পিতা ও আলভিরা। পরিবারের সবাই মিলে ভক্তদের উদ্দেশে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর সুস্থ হয়ে জনসমক্ষে আসায় সেলিম খানকে দেখে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেন ভক্তরা।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে এই দৃশ্য তুলে ধরেন সালমান খান। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “ঈদ মোবারক, আপনাদের আশীর্বাদের জন্য ধন্যবাদ। বাবা বাড়ি ফিরে এসেছেন, আলহামদুলিল্লাহ।” এই বার্তাটি ভক্তদের মধ্যে আরও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সেলিম খান। প্রায় এক মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর ঈদের ঠিক আগে তিনি বাসায় ফেরেন।
চিকিৎসকদের মতে, তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে ঈদের দিন পরিবারের সঙ্গে তার এই উপস্থিতি ভক্তদের জন্য বাড়তি আনন্দের কারণ হয়ে ওঠে। প্রতিবছর ঈদের দিনে ভক্তদের সঙ্গে এইভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করা সালমান খানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ‘গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট’-এর সামনে তার এই উপস্থিতি যেন এক অনানুষ্ঠানিক মিলনমেলায় রূপ নেয়, যেখানে তারকা ও ভক্তদের দূরত্ব অনেকটাই কমে আসে।
এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন সালমান খান। তার পরবর্তী সিনেমা ‘মাতৃভূমি’, যা শুরুতে ‘ব্যাটল অব গেলওয়ান’ নামে পরিচিত ছিল। ভারত-চীন সীমান্তের বাস্তব ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমায় তাকে দেখা যাবে কর্নেল বিকুমা সন্তোষ বাবুর চরিত্রে। সব মিলিয়ে, এবারের ঈদে সালমান খানের উপস্থিতি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভক্তদের জন্য এক আবেগঘন পুনর্মিলন—যেখানে ভালোবাসা, প্রার্থনা আর উচ্ছ্বাস একাকার হয়ে গেছে।
