শনিবার (২১ মার্চ) ভোররাতে কুমিল্লার পদুয়ারবাজারে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের রেল ক্রসিংয়ে ঘটে বিপজ্জনক বাস-ট্রেন সংঘর্ষ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় রেলক্রসিংয়ের গেট খোলা ছিল, যা সংঘর্ষের অন্যতম কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঘটনার সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেন ক্রসিং পার হওয়ার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল বাস লাইনে উঠে পড়ে। মুখোমুখি সংঘর্ষে বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং ট্রেনটি বাসটিকে বহু দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮ জন, যারা বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনার সময় লেভেল ক্রসিংয়ে দায়িত্বে ছিলেন গেটম্যান মেহেদী ও হেলাল। তদন্তে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, তারা ক্রসিং পার হওয়া বাসের পাশেই উপস্থিত ছিলেন না এবং গেট বন্ধ করা হয়নি। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “আমি ক্রসিং পার হওয়ার জন্য মোটরসাইকেলে দাঁড়িয়ে ছিলাম। দেখলাম ট্রেন আসছে, কিন্তু গেট খোলা। বাস কোনো বাধা ছাড়াই ক্রসিংয়ে উঠে পড়ে এবং ট্রেনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।”
দুর্ঘটনার পর গেটম্যান দুজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের (চট্টগ্রাম) বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার তদন্তে দুটি রেলওয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে অনুদান হিসেবে ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে বাসটি আপলাইন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং রেল চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গেটম্যানের অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।”
