রবিবার (২২ মার্চ) ভোর চারটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় ঘটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, যেখানে প্রথমে একটি অ্যাম্বুলেন্স ও বাসের সংঘর্ষের কারণে সড়কে জটলা তৈরি হয়। সেই জটলার উপর আরেকটি বাস উঠে পড়লে মৃত্যু হয় তিনজনের এবং আহত হন অন্তত আরও পাঁচজন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মহাসড়কের ওই অংশে সেতুর সংস্কার কাজ চলায় যান চলাচল ধীর ছিল। ধীরগতিতে চলা একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পেছন থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয়। এ সময় বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সড়কে যানজট ও জটলা তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেই মুহূর্তে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস দ্রুতগতিতে এসে জটলার উপর উঠে পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন:
- মো. মোরশেদ (৪০), যিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন। প্রথম সংঘর্ষের পর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাড়ি থেকে নেমে ছিলেন, তখনই বাসটি তার ওপর উঠে পড়ে।
- মো. কাউছার (৩৫), দোয়েল পরিবহনের সুপারভাইজার।
- সোহাগ মণ্ডল (২৭), ঢাকার লালবাগ এলাকার বাসিন্দা।
আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন, যাদের মধ্যে রয়েছেন মো. রানা (৪০) ও মো. সোহেল (৩০)। আহতদের দ্রুত ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তিনি আরও বলেন, সেতুর সংস্কার কাজ এবং ধীরগতি এই দুর্ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল কাইয়ুম বলেন, “ঈদের এই ব্যস্ত সময়ে মহাসড়কে সংস্কার কাজের কারণে এতগুলো প্রাণ ঝরে গেল। কিছুটা সচেতনতা থাকলে হয়তো এমন হতাহতের ঘটনা ঘটত না।”
