ইরান তার সামরিক বাহিনীকে মাধ্যমে সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, যদি তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে। রবিবার এই হুমকির কথা ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি জানান।
ইরানের সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, শুধু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়ও আঘাত হানার প্রস্তুতি রয়েছে। এ সতর্কবার্তা আসে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা না ফিরিয়ে দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন।
ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রয়াত প্রধান আলী লারিজানি আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন যে, ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডকে লক্ষ্যবস্তু করলে “আধা ঘণ্টার মধ্যেই পুরো অঞ্চলটি অন্ধকারে ডুবে যাবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করে, আর এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
ইরানের এই হুমকি এবং মার্কিন হুঁশিয়ারির মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো বড় সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক হয়েছেন। এছাড়া, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, ইরানের বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে পুরো অঞ্চলকে ভাঙতে পারে, যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বড় ধাক্কা হবে।
