ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনকে ফের আদালতে তোলা হয়েছে। রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন ফয়সাল। রোববার (২২ মার্চ) ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তাদের উপস্থাপন করা হয়।
আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকরা হাদি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে ফয়সাল স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।” এর আগে আদালতে তোলার পূর্বে অভিযুক্তদের বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। সেখানে তারা কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে রাজি হননি এবং সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান।তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৭ ও ৮ মার্চ রাতে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল করিম মাসুদের বয়স ৩৭ বছর, তার বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলায়। অপর অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের বয়স ৩৪ বছর, তার বাড়ি ঢাকায়। তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা। বনগাঁ এলাকায় অবস্থান নিয়ে তারা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন বলে এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, তদন্তকারী সংস্থার দাবি—গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল ও আলমগীর দুজনেই হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছিলেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালতের নির্দেশে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে পুনরায় তাদের আদালতে হাজির করা হলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেটধারী দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে।
