মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার এক সময়েই পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্রিটিশ সাবমেরিন এইচএমএস অ্যানসন আরব সাগরে পৌঁছেছে। এটি ইরানের ওপর আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত অবস্থানে রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এই ‘অ্যাস্টুট-ক্লাস’ আক্রমণাত্মক সাবমেরিনটির দৈর্ঘ্য ৯৭ মিটার (৩১৮ ফুট) এবং এটি সজ্জিত টমাহক ব্লক ৪ ল্যান্ড-অ্যাটাক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও স্পিয়ারফিশ হেভিওয়েট টর্পেডো দ্বারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোতে আঘাত হানতে সক্ষম। ব্রিটিশ নৌবাহিনী যদিও এই মোতায়েন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু প্রকাশ করেনি, তবুও তাদের ঘাঁটি ও ক্ষমতা নিয়ে ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার হরমুজ প্রণালি লক্ষ্য করে ইরান-নিয়ন্ত্রিত স্থাপনায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেছেন, “ব্রিটেন অনেক দেরি করেছে, আমরা ইতিমধ্যেই বড় ধরনের হামলার জন্য প্রস্তুত।” মার্কিন-ইরান উত্তেজনা এতটাই তীব্র যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্থবির হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা বৈশ্বিক তেলের বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি তাদের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়, তারা মার্কিন ও মিত্র রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্রিটিশ সাবমেরিনের মোতায়েন মার্কিন কূটনীতি ও হুমকিকে আরও জোরালো করছে। একই সঙ্গে, তেল ও গ্যাসের সরবরাহে বাধা, আরব সাগরে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে শেয়ার ও তেলের দামের ওঠানামার সম্ভাবনা বাড়ছে।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সরবরাহ হয়। সাবমেরিন ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন, কারণ সামরিক সংঘাত শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহকেও বিপদে ফেলতে পারে।
ব্রিটিশ সাবমেরিনের মোতায়েন, ট্রাম্পের হুমকি, এবং ইরানের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতি, সামরিক প্রস্তুতি ও অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যে কোনো ছোট ঘটনার মধ্যেও এটি বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
