ঢাকা বুধবার ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৫শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রচ্ছদ সর্বশেষ মাদুরোকে উৎখাতের নেপথ্যে ঘনিষ্ঠদের বিশ্বাসঘাতকতা: প্রকাশ্যে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

মাদুরোকে উৎখাতের নেপথ্যে ঘনিষ্ঠদের বিশ্বাসঘাতকতা: প্রকাশ্যে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার প্রাসাদ থেকে মার্কিন বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে এখনও বিস্ময় সৃষ্টি করে আছে। তবে সম্প্রতি প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই ঘটনার পেছনে থাকা গভীর এক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের চিত্র। যেখানে মাদুরোর অতিঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।

গোপন সমঝোতা ও রদ্রিগেজ ভাই-বোনের ভূমিকা

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদুরোকে আটক করার আগেই ওয়াশিংটনের সাথে কারাকাসের শীর্ষ নেতাদের এক গোপন সমঝোতা হয়েছিল। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এবং তার ভাই জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ গোপনে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, মাদুরোর বিদায়কে তারা স্বাগত জানাবেন।

সূত্র মতে, ডেলসি রদ্রিগেজ যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন থেকেই তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন। যদিও ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুরুতে অনিচ্ছুক ছিলেন, তবে পরে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, মাদুরোর পরবর্তী ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে ডেলসি রদ্রিগেজই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হতে পারেন।

দিয়োসদাদো কাবেলোর সংশ্লেষ

শুধু রদ্রিগেজ ভাই-বোনই নন, ভেনেজুয়েলার প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রক দিয়োসদাদো কাবেলোর নামও এই ষড়যন্ত্রে উঠে এসেছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, কাবেলোও অভিযান শুরুর কয়েক মাস আগে থেকেই মার্কিন প্রশাসনের সাথে গোপন যোগাযোগ বজায় রাখছিলেন।

ট্রাম্পের ইঙ্গিত ও কাতারের মধ্যস্থতা

অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেলসি রদ্রিগেজের সমর্থনের বিষয়টি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “ডেলসি এই উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছেন। তিনি সব বোঝেন।”

এই গোপন কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে কাতার। কাতারের শাসক পরিবারের সাথে ডেলসি রদ্রিগেজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই আলোচনার পথ আরও সহজ করে দিয়েছিল।

অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি

মাদুরোর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার বিষয়টি ডেলসি রদ্রিগেজের জন্য ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একদিকে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে মাদুরোর বিদায়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছিলেন, অন্যদিকে প্রকাশ্যে তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সরাসরি প্রতিশ্রুতি দিতে ভয় পাচ্ছিলেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, “ডেলসি মাদুরোকে ভীষণ ভয় পেতেন।”

চলতি জানুয়ারির শুরুতে যখন মার্কিন হেলিকপ্টার কারাকাসে পৌঁছায়, তখন ডেলসি রদ্রিগেজ লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন। প্রথমে তার মস্কো পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন উঠলেও পরে জানা যায়, তিনি ভেনেজুয়েলার মার্গারিটা দ্বীপে অবস্থান করছিলেন।

0 FacebookTwitterPinterestEmail

অনুসন্ধান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (তুহিন)

নির্বাহী সম্পাদক

সোনিয়া রহমান

অফিসঃ

৪৯ মতিঝিল (৮ম তলা), শাপলা ভবন, শাপলা চত্বর, ঢাকা - ১০০০

ই-মেইলঃ

rightwayciezs@gmail.com

টেলিফোনঃ

+৮৮ ০১৭১২-৭৭৭ ৩৬৩

মার্কেটিংঃ

+৮৮ ০১৯৪৮- ৯০০ ৯১১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব rightwaynews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত