ছবিঃ সংগৃহীত।
ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহর উত্তরাধিকারী রেজা পাহলভি দীর্ঘ চার দশকের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে আবারও রাজসিংহাসনে ফেরার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে দেওয়া এক নাটকীয় বিবৃতিতে তিনি ইরানি বিক্ষোভকারীদের শহরের কেন্দ্রস্থলগুলো দখলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কয়েক দশক ধরে অহিংস আন্দোলনের কথা বললেও, এবারই প্রথম সরাসরি বর্তমান সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজের প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নিতে বললেন এই সাবেক যুবরাজ।
তেহরানে জন্ম নেওয়া ৬৫ বছর বয়সী রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ইরানে ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের কথা বললেও, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তার সুর এখন অনেক বেশি চড়া। তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, এখন আর কেবল রাস্তায় নামা লক্ষ্য নয়, বরং শহরের কেন্দ্রস্থলগুলো দখল করে তা ধরে রাখতে হবে। পাহলভির এই ডাককে ইরানের বর্তমান সরকার সরাসরি একটি ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা’ এবং ‘অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের উসকানি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
রেজা পাহলভি ১৭ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিমান পরিচালনার প্রশিক্ষণ নিতে যান। টেক্সাসের বিমানবাহিনী ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ চলাকালীনই ইরানে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং তার বাবা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক করেন এবং ১৯৮০-র দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় দেশের হয়ে যুদ্ধ করার প্রস্তাব দিলেও তৎকালীন সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে। সেই থেকে তিনি সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন।
পাহলভি কেবল শহর দখলের ডাক দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি তেল, গ্যাস ও পরিবহন খাতের শ্রমিকদের প্রতি দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। তার লক্ষ্য হলো ধর্মঘটের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের ‘আর্থিক জীবনরেখা’ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। একই সঙ্গে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি বর্তমান শাসনের পক্ষত্যাগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি সমর্থকদের ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পূর্ব ‘সিংহ ও সূর্য’ খচিত পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানান, যা তার বাবার শাসনামলের প্রতীক।
রেজা পাহলভির এই আহ্বানকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমগুলো ‘সন্ত্রাসবাদের চরমবিন্দু’ বলে বর্ণনা করেছে। দেশটির রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াতানে ইমরোজ’ দাবি করেছে, এটি কোনো সাধারণ দাঙ্গা নয়, বরং পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলা। পাহলভি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি নিজেও মাতৃভূমিতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যাতে বিপ্লবের চূড়ান্ত মুহূর্তে দেশবাসীর পাশে থাকতে পারেন। এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এলো যখন ইরান গত কয়েক বছরের মধ্যে সবথেকে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
