ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে বহু বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে, যেগুলো নকশা, সুযোগ-সুবিধা ও জাঁকজমকের জন্য পরিচিত। ভারতের মুকেশ আম্বানির অ্যান্টিলিয়া সেসবেরই একটি, যার সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। তবে বিলাস নয়—‘নিরাপত্তা’ বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুরক্ষিত বাসভবন হিসেবে পরিচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি আবাস হোয়াইট হাউস।
বর্তমানে এই বাসভবনের অধিবাসী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দাবি—এতটাই উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে যে কোনো পাখিও সহজে এর ওপর দিয়ে উড়তে পারে না। এমনকি ভুল স্থানে পাখির ডানা ঝাপটালেও বাজতে পারে অ্যালার্ম।
দুই শতাব্দীর পুরোনো স্থাপনা
ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস নির্মাণ শুরু হয় ১৭৯২ সালে এবং শেষ হয় ১৮০০ সালে। স্থপতি আইরিশ নাগরিক জেমস হোবানের নকশায় এই ভবন তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ২ লাখ ৩২ হাজার মার্কিন ডলার।
বিল্ডিংটির পরিমাণও বিস্ময়কর। এতে রয়েছে—
১৩২টি কক্ষ
৩৫টি বাথরুম
৬টি তলা
৪১২টি দরজা
১৪৭টি জানালা
২৮টি অগ্নিকুণ্ড
৮টি সিঁড়ি
৩টি লিফট
সব মিলিয়ে এটি শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতীকই নয়—বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বাসভবন হিসেবেও পরিচিত।
পারমাণবিক হামলা সহ্য করতে সক্ষম বাঙ্কার
হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত থাকলেও বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন—এই কমপ্লেক্সে বহুস্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। জিনিউজ হিন্দির প্রতিবেদন বলছে, ভবনটিতে এমন বাঙ্কার রয়েছে, যা পারমাণবিক হামলা পর্যন্ত সহ্য করতে সক্ষম।
এছাড়া রয়েছে—
স্টেট ডাইনিং রুম
ওভাল অফিস
ম্যাপ রুম
আধুনিক রান্নাবাগান
শিশুদের বাগান
জিমনেশিয়াম
সুইমিং পুল
ব্যক্তিগত সিনেমা হল
সুবিশাল ল্যান্ডস্কেপযুক্ত লন
গোপন স্নাইপার থেকে ড্রোন প্রতিরক্ষা—নিরাপত্তা নজরদারি ২৪ ঘণ্টা
হোয়াইট হাউসের চারপাশে যেকোনও সময় স্নাইপার, সোয়াট দল, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিশেষ বাহিনী এবং কুকুর ইউনিট টহল দেয়। আকাশপথে রয়েছে অদৃশ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি।
কর্তৃপক্ষের দাবি—গৃহনির্মিত বিস্ফোরক তো দূরের কথা, একটি ছোট পারমাণবিক ডিভাইসও নিরাপত্তা ভেদ করে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব।
গুলিবিদ্ধ দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্য—আবারও শিরোনামে হোয়াইট হাউস
স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউস সংলগ্ন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন দুই ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ন্যাশনাল গার্ড সদস্য। তাঁদের একজন সারাহ বেকস্ট্রম পরে হাসপাতালে মারা যান। এই ঘটনার পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
