ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নরখাদক হিসেবে পরিচিত টাইরি স্মিথ—যিনি এক গৃহহীন মানুষকে নৃশংসভাবে কুঠার দিয়ে হত্যা করে তার মগজ ও একটি চোখ খেয়েছিলেন—তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ঘটনা ২০১১ সালের, যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে।
টাইরি স্মিথ, যাকে “কানেকটিকাট ক্যানিবাল” নামে ডাকা হয়, সেদিন গৃহহীন অ্যাঞ্জেল গঞ্জালেসকে কুঠার দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। পরে কবরস্থানে বসে ভুক্তভোগীর মগজ ও চোখ খেয়ে ফেলেন। এর আগের দিন তিনি তাঁর কাজিন নিকোলের বাসায় গিয়ে গ্রিক দেবতাদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বলেন এবং জানান যে তিনি “হাতে রক্ত লাগাতে চান”।
পরদিন তিনি নিকোলের বাড়িতে ফিরে আসেন পুরো শরীর রক্তে ভেজা অবস্থায় এবং জানান, তিনি ভুক্তভোগীর শরীরের অংশ খেয়েছেন—সঙ্গে সাকে (জাপানি রাইস ওয়াইন) পান করেছেন। নিকোলকে তিনি বলেন, গঞ্জালেসের চোখে “ঝিনুকের মতো স্বাদ” ছিল। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ব্রিজপোর্ট শহরের একটি খালি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে অ্যাঞ্জেল গঞ্জালেসের বিকৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
২০১৩ সালে টাইরি স্মিথকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে হত্যার দায়মুক্ত’ ঘোষণা করা হয় এবং তাকে ৬০ বছরের জন্য হুইটিং ফরেনসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কিন্তু এ বছরের শুরুতে রাজ্যের Psychiatric Security Review Board একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য শোনার পর সিদ্ধান্ত দেয় যে স্মিথের স্কিজোফ্রেনিয়া এবং মাদক ও অ্যালকোহল–সংক্রান্ত অসুস্থতা ওষুধ ও থেরাপির ফলে “সম্পূর্ণ রেমিশনে” আছে। তাই তাকে কঠোর শর্তে কমিউনিটি তত্ত্বাবধানে মুক্তি দেওয়া হয়।
ফরেনসিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ক্যারেন টাইটেলবাউম বলেন, “তিনি এখন স্থিতিশীল, ওষুধ ঠিকমতো নেন এবং গ্রুপ থেরাপি ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নেন।”
তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর কারাগারের যে নথি পেয়েছে, তাতে দেখা যায়—স্মিথ কারাগারে থাকার সময় বেশ কয়েকবার অন্য বন্দিদের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হন। গার্নার কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে এক বন্দির সঙ্গে মারামারির পর তাকে আলাদা করে রাখা হয়। সে সময় তিনি কর্মকর্তাদের বলেন, ওই বন্দি “তাকে অপমান করেছিল”।
ভুক্তভোগীর পরিবার বলছে—সে এখনও সমাজের জন্য হুমকি
অ্যাঞ্জেল গঞ্জালেসের ভাশুরবউ তালিথা ফ্রেজিয়ার বলেন, “সে বিপজ্জনকই রয়ে গেছে। কারাগারে সে পাগলামি দেখিয়ে মুক্তি পেল, অথচ সেখানে থেকেও সহিংস আচরণ করেছে।”
রায় ঘোষণার কয়েকদিন আগে আদালতে স্মিথ অ্যাঞ্জেলের মৃত্যুর জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমি সত্যিই দুঃখিত। আমি তখন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। এর সঙ্গে অন্য ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক ছিল না।”
তালিথা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “দুই বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করছিলাম তার মুখে ‘দুঃখপ্রকাশ করে ক্ষমা চাওয়ার’ জন্য। আজ সে যা বলেছে, তা আমাকে বিস্মিত করেছে—তবে মনে হয়েছে সে সত্যিই অনুতপ্ত।”
টাইরি স্মিথ এখন কড়া নজরদারিতে কমিউনিটি পরিবেশে থাকবেন—চিকিৎসা ও থেরাপি চালিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক।
সূত্র: দ্য মিরর।
