ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন -ইয়াহু নিউজ
আফ্রিকার ছয় দেশে রাশিয়ার সেনাবাহিনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরটি। যা ওই মহাদেশে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে এটি বিরল স্বীকারোক্তি। মস্কো জানিয়েছে, তাদের বাহিনী বেশ কয়েকটি আফ্রিকান সরকারকে জঙ্গি দমনে সহায়তা করছে। মঙ্গলবার এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনে আক্রমণের পর পশ্চিমা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মস্কো। দেশটি আফ্রিকায় নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বৃদ্ধি করেছে। এক প্রতিবেদনে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভি আরটির সংবাদদাতা বলেন, রুশ সশস্ত্র বাহিনীর ইউনিটের কর্মকর্তা ও সৈন্যরা ইতোমধ্যে ছয়টি আফ্রিকান দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খবর তাসের।
প্রতিবেদনে মালি ছাড়া অন্য দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে বুরকিনা ফাসো, নাইজার, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র এবং লিবিয়াতেও রুশ সেনা বা সামরিক প্রশিক্ষকদের মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রগুলো এএফপিকে জানিয়েছিল, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকান কর্পস ইউনিট মহাদেশজুড়ে ওয়াগনার আধাসামরিক গোষ্ঠীর জায়গা নিয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্টে এক রহস্যজনক বিমান দুর্ঘটনায় ওয়াগনার গ্রুপের নেতা ইয়েভগেনি প্রিগোজিন নিহত হওয়ার পর গ্রুপটি পুনর্গঠন করা হয়। এর আগে প্রিগোজিন মস্কোর বিরুদ্ধে স্বল্পস্থায়ী বিদ্রোহ করেন। ওয়াগনারের সেনারা ইউক্রেনে যুদ্ধ করেছে এবং আফ্রিকার বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন ছিল। রাষ্ট্রীয় টিভির প্রতিবেদনে আফ্রিকান কর্পসকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মোতায়েনকৃত অধিকাংশ সৈন্যই বিশেষ সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞ যোদ্ধা। প্রতিবেদনে একটি ভিডিওতে মালির একটি ঘাঁটিতে দুটি রাশিয়ান বোমারু বিমান, হেলিকপ্টার এবং সাঁজোয়া যানসহ ভারী রাশিয়ান সরঞ্জাম দেখা গেছে। এদিকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় বালাক্লিয়ায় মঙ্গলবার রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। খারকিভ আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
