ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়া ঘোষণা করেছে, তারা সফলভাবে পরীক্ষা চালিয়েছে পরমাণু শক্তিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র 9M730 বোরেভেস্টনিক (Burevestnik) — যা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দেওয়া বিবৃতিতে বিশ্বের অন্য কোনো দেশের কাছে নেই এমন সক্ষমতার অস্ত্র হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। কর্ণধারদের দাবি অনুযায়ী এই ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জ অনির্দিষ্ট বা অনলিমিটেড, ফলে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে আঘাত করতে সক্ষম বলে জানানো হয়েছে।
রুশ সামরিক সূত্র ও প্রধানধারার প্রতিবেদন বলছে, পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি *সূত্রে বলা হয়েছে লম্বা সময় ধরে উড়েছে—প্রায় ১৪,০০০ কিলোমিটার ধরে ১৫ ঘণ্টা; vertikal ও horizontal манёвরিং–সহ এটি রাডার ও প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করার ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে বলে দাবি করা হয়। ক্রেমলিন জানিয়েছে, অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তি তাদের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। ন্যাটো ও পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখেন এবং বোরেভেস্টনিকের পরীক্ষার অতীতে একাধিক ব্যর্থতা রেকর্ড আছে বলে উল্লেখ করেন। ২০১৯ সালের এক পরীক্ষার সময় একটি বিস্ফোরণে নোবেল নোটযোগ্য পদার্থ ও তীব্র দূষণের সঙ্গে—গবেষক ও পরিবীক্ষকদের মধ্যে বিধ্বস্ত ঘটনার কারণে রাশিয়ার ওই প্রকল্পে বড় পরিমাণে সংকট দেখা দিয়েছিল।
ন্যাটোতে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পরিচিত “স্কাইফল (Skyfall)” নামে; মার্কিন ও পশ্চিমা বার্তায় বলা হচ্ছে—রুশ দাবিগুলো সত্য হলে তা আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করবে, কিন্তু স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন।
রুশ রাজনীতিক ও সামরিক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমা দেশগুলোতে উদ্বেগ বিরাজ করছে। মার্কিন ও ইউরোপীয় বিশ্লেষকরা বলছেন—যদি বাস্তবে এমন কোনও কর্মক্ষম পরমাণুচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র থাকত, তা অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য যুক্তিসঙ্গত পরিণতি ডেকে আনত; তবু স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ও তথ্য যাচাইকরণ ছাড়া দাবি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।
বোরেভেস্টনিক প্রকল্পটি ২০১৬–২০১৯ সাল থেকে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ছিল—কয়েক দফায় ব্যর্থতার খবর উঠে আসে এবং ২০১৯ সালের আগুনের ঘটনায় কয়েকজন বিজ্ঞানীর মৃত্যু এবং বিকিরণ সংক্রান্ত ঘটনাও আলোচনায় আসে। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই ধরণের “নতুন কৌশলগত অস্ত্র” তৈরির দাবি করে келеді; ২০১৮ সালে পুতিন এই অস্ত্রের ওপর প্রথমবারের মতো গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
সংক্ষেপে—রাশিয়া দাবি করেছে 9M730 বোরেভেস্টনিকের সাম্প্রতিক পরীক্ষা সফল হয়েছে এবং এটি সীমাহীন রেঞ্জের, রাডারবাঁচানোর ক্ষমতা যুক্ত একটি পরমাণুচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র; কিন্তু পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা আগের ব্যর্থতা ও স্বাধীন তথ্যে নিশ্চিতকরণ না থাকার কারণে সতর্ক। আন্তর্জাতিক পর্যঙ্কালে এ ঘটনার প্রভাব দ্রুতই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।
