ঢাকা শুক্রবার ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রচ্ছদ আরও গাড়ির বদলে ঘোড়া

গাড়ির বদলে ঘোড়া

গাড়ির হর্নের বদলে শোনা যাবে ঘোড়ার ডাক

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হিউরন হ্রদের মাঝে অবস্থিত মাকিনাক দ্বীপ- সেখানে গেলে মনে হবে যেন ওয়েস্টার্ন গল্পের এক টুকরা ভূমি। যেখানে গাড়ির হর্নের বদলে শোনা যাবে ঘোড়ার ডাক। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ির রাজধানী ডেট্রয়েটে অবস্থিত হলেও ৬০০ মানুষ ও সমসংখ্যক ঘোড়ার দ্বীপটিতে এখনো মোটরগাড়ি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
স্থানীয় দোকানদার উরভানা ট্রেসি মোর্স বলেন, এখানে ঘোড়াই রাজা। গলফ কার্ট চলাচলের অনুমতিও নেই। তাই আচমকা কোনো আওয়াজ শুনলে ধরে নেবেন সেটা দ্বীপের ঘোড়া বা পাখির কাছ থেকে এসেছে।
জানা যায়, ১৮৯৮ সালে এক গাড়ির ব্যাকফায়ারে স্থানীয় ঘোড়াগুলো মারাত্মক ঘাবড়ে যায়। তখন থেকেই দ্বীপের অভ্যন্তরে ইঞ্জিনচালিত বাহন নিষিদ্ধ। এরপর থেকে তথাকথিত আধুনিকতার বদলে শান্ত জীবনযাপনকেই গুরুত্ব দিয়েছেন দ্বীপের বাসিন্দারা।
প্রতি গ্রীষ্মে সাধারণ জীবন স্বাদের সন্ধানে প্রায় ১২ লাখ মানুষ মাকিনাকে যান। দ্বীপের বিখ্যাত ফাজ, ৭০ মাইলের ট্রেইল, ঘোড়ার খুরের শব্দে তারা হারিয়ে যেতে চান শান্ত, নিরিবিলি অতীতে।
মাকিনাকের নামকরণের ইতিহাস অনেক পুরানো। দ্বীপের চুনাপাথরের ঢাল এবং সবুজ বনের সঙ্গে বিশালকায় কচ্ছপের পিঠের মিল থাকায় স্থানীয় আদিবাসীরা এর নাম দিয়েছিলেন ‘মিচিলিমাকিনাক’ যা বাংলায় বলা যেতে পারে ‘মহান কচ্ছপের স্থান’। বহু শতাব্দী ধরে এই দ্বীপকে মাছ ধরা ও শিকারের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ১৭৮০ সালে একটি প্রতিরক্ষা দুর্গ স্থাপন করা হয়। তখন দ্বীপের নাম সংক্ষেপে হয়ে যায় মাকিনাক। আজও দর্শনার্থীরা সেখানে ঐতিহাসিক ক্যানন ফায়ারিং দেখতে পারেন। বিশেষ পোশাকধারী গাইডের সঙ্গে ঘুরে তারা মিশিগানের প্রাচীনতম ভবনগুলোতে ইতিহাস খোঁজ করেন। দ্বীপটিতে রয়েছে ১৩৮ বছরের পুরানো গ্র্যান্ড হোটেল, যার সজ্জিত কক্ষ এবং দীর্ঘ বারান্দা বিশেষ স্বাতন্ত্র্যের দাবিদার।
দ্বীপের ৮০ শতাংশ এলাকা মাকিনাক দ্বীপ স্টেট পার্কের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে পর্যটকরা প্রাচীন বন, চুনাপাথরের স্তম্ভ, হাইকিং, সাইকেল বা ঘোড়ার গাড়িতে ঘুরে আর্ক রক দেখতে পারেন। দ্বীপে চলাচলের আরেকটি প্রধান মাধ্যম হচ্ছে সাইকেল। সেখানে ভাড়া দেওয়ার জন্য প্রায় দেড় হাজার সাইকেল রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হান্টার হোগল্যান্ড বলেন, ঘোড়া ছাড়া এখানকার জীবন অসম্পূর্ণ। ঘোড়ার খুরের শব্দ শুনলে মনে হবে অতীতে ফিরে গেছেন।
শীতকালে দ্বীপটি প্রায় সময়ই বরফে ঢেকে থাকে এবং ফেরি পরিষেবা বন্ধ থাকে। তবে বসন্ত ও গ্রীষ্মে দ্বীপটিতে প্রাণ ফিরে আসে। সবচেয়ে বড় কথা- ইঞ্জিনের শব্দ ছাড়া মানুষ, ঘোড়া এবং প্রকৃতি মিলে অতীতের শান্ত, সুশৃঙ্খল জীবনকে ধরে রেখেছে মাকিনাক।- বিবিসি অবলম্বনে

0 FacebookTwitterPinterestEmail

অনুসন্ধান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (তুহিন)

নির্বাহী সম্পাদক

সোনিয়া রহমান

অফিসঃ

৪৯ মতিঝিল (৮ম তলা), শাপলা ভবন, শাপলা চত্বর, ঢাকা - ১০০০

ই-মেইলঃ

rightwayciezs@gmail.com

টেলিফোনঃ

+৮৮ ০১৭১২-৭৭৭ ৩৬৩

মার্কেটিংঃ

+৮৮ ০১৯৪৮- ৯০০ ৯১১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব rightwaynews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত