বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পারমাণবিক শক্তিধর দেশ রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে প্রতিদিনই নতুন নতুন কৌশল অনুসরণ করছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া নতুন অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে বলে জানা গেছে, যা বিশ্বব্যাপী নতুন করে সামরিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
নতুন অস্ত্রের রহস্য ও মেদভেদেভের ঘোষণা
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রী মেদভেদেভ জানিয়েছেন, তাদের প্রতিরক্ষা বহরে নতুন একটি শক্তিশালী অস্ত্র যোগ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শত্রুপক্ষের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নিমিষেই ধ্বংস করতে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই উন্নত অস্ত্র তৈরি করেছে রাশিয়া, যা তাদের সামরিক বাহিনীকে পূর্বের চেয়েও শক্তিশালী করবে।
তবে কোন অস্ত্রের কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য জানাননি। মেহের নিউজ এজেন্সি ১৯ অক্টোবর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পুতিনের ইঙ্গিত ও সামরিক সক্ষমতা
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি জানান, তার দেশ নতুন হাইপারসোনিক মিসাইল তৈরির পথে রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
“কিনঝাল ও এভারনগার্ডের মতো আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল মোতায়েন করেছি।”
“আমরা অন্যান্য অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। কাজ চলছে এবং ফলাফল আসবে।” (স্পুটনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী)
রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, “আমরা আমাদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর আত্মবিশ্বাসী। যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও আমাদের কৌশলগত অস্ত্র বেশি রয়েছে।”
পশ্চিমাদের উদ্বেগ ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
এই উন্নত অস্ত্রের পরীক্ষা এমন এক সময় এলো যখন ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সাথে রাশিয়ার সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সাথেও মস্কোর সংঘাত বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা বহুদিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে যে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের মাধ্যমেই শুরু হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর বার্ষিক বাজেট বৃদ্ধি রাশিয়ার বিরুদ্ধে আসন্ন যুদ্ধের প্রস্তুতিরই অংশ। কারণ পুতিন ইলেকট্রনিক যুদ্ধের ক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি করছেন, যার ফলে বিশ্বব্যাপী সামরিক উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। রাশিয়ার এই নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা পুতিনের পক্ষ থেকে পশ্চিমা দেশগুলোকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দেওয়া একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
