ফাইল ছবি
মহাকাশ যাত্রায় এক নতুন অধ্যায় রচনা করে নিজেদের প্রথম হাইপারস্পেকট্রাল স্যাটেলাইট ‘এইচএস-১’ (HS-1) সফলভাবে উৎক্ষেপণ করার দাবি করেছে পাকিস্তান। চীনের জিউকোয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে এই উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
এর লাইভ সম্প্রচার দেখা গেছে করাচিতে অবস্থিত সুপারকোর (SUPARCO) প্রধান কার্যালয় থেকে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানি বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা। সুপারকোর মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্যাটেলাইটটি সফলভাবে তার নির্ধারিত কক্ষপথে প্রবেশ করেছে। এখন শুরু হবে দুই মাসব্যাপী ইন অরবিট টেস্টিং। এই পরীক্ষার পর এইচএস-১ পুরোপুরি কার্যকর হবে।
বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণে অভূতপূর্ব সক্ষমতা: হাইপারস্পেকট্রাল প্রযুক্তির এই উপগ্রহটি পৃথিবীর ভূমি, উদ্ভিদ, পানি এবং শহুরে এলাকার বিস্তারিত বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। শত শত ভিন্ন ভিন্ন স্পেকট্রাল ব্যান্ডে ছবি ধারণ করে এটি নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবে। এর মাধ্যমে মাটির আর্দ্রতা, ফসলের স্বাস্থ্য কিংবা বন উজাড়ের চিহ্ন পর্যন্ত ধরা সম্ভব হবে।
কৃষি ও নগর উন্নয়নে বিপ্লব: পাকিস্তানের দাবি, এই স্যাটেলাইট কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাবে। এর ডেটা ব্যবহার করে নির্ভুল সেচ পরিকল্পনা, মাটির মান নির্ধারণ ও ফলনের পূর্বাভাস পাওয়া যাবে, যা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি নির্ভুলতায় করা যাবে।
শহর পরিকল্পনাতেও এইচএস-১ এর নজর থাকবে। এটি নগর সম্প্রসারণ, দূষণ ও অবকাঠামোগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করবে, যা টেকসই নগর উন্নয়নের পরিকল্পনায় বড় সহায়ক হবে।
পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার রক্ষা কবচ: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এই স্যাটেলাইট একটি নতুন রক্ষা কবচ। বন্যা, ভূমিধস কিংবা হিমবাহ গলনের ঝুঁকি সবকিছুই স্যাটেলাইট আগেভাগেই শনাক্ত করতে পারবে। বিশেষ করে কারাকোরাম হাইওয়ে ও উত্তরাঞ্চলের দুর্গম এলাকা পর্যবেক্ষণে এটি রাখবে নীরবচ্ছিন্ন চোখ।
সুপারকোর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ খান দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এইচএস-১ শুধু একটি স্যাটেলাইট নয়, এটি আমাদের আত্মনির্ভরতার প্রতীক। এটি পাকিস্তানের ‘স্পেস ভিশন ২০৪৭’-এর পথে এক বিশাল পদক্ষেপ।”
ভারতের উদ্বেগ ও চীনের ভূমিকা: পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ মহাকাশ সহযোগিতার এই সফল অধ্যায় পাকিস্তান-চীন বন্ধুত্বে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার পাকিস্তান ও চীনের বিজ্ঞানীদের অসাধারণ সহযোগিতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন।
এ বছর এটি পাকিস্তানের তৃতীয় সফল স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ। এর ফলে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মহলেও কিছুটা চিন্তার ঢেউ উঠেছে। তারা মনে করছে ভূপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণের নামে এই স্যাটেলাইট গোয়েন্দা নজরদারিও চালাতে পারে।
