চিত্রনায়িকা কাবেরী
চিত্রনায়িকা কাবেরীর কথা অনেকে ভুলেই গেছে। কারণ ১৯৮৯ সালের পর তিনি আর কখনো সিনেমাতে অভিনয় করেননি। পরিচালক দীলিপ সোমের ‘মনিমালা’ সিনেমায় অভিনয়ের পর মঞ্চ নাটক, টিভি নাটক এবং চলচ্চিত্রে অভিনয়ে ভীষণ ব্যস্ত হয়ে উঠেন। তবে সিনেমাতেই তিনি বেশি কাজ করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হচ্ছে ‘বলাকা মন’, ‘সুখ-দুঃখ’, ‘অবাক পৃথিবী’, ‘বাংলার চব্বিশ বছর’, ‘আমির ফকির’ ইত্যাদি। কাবেরীর ভাষ্যমতে নায়িকা হিসেবেই তিনি বেশি সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। সব মিলিয়ে একশত সিনেমাতে তিনি অভিনয় করেছেন। তবে এই সময়ে এসে অনেক সিনেমার নামই তিনি মনে করতে পারছেন না।
কাবেরী বলেন, এখনো খুব ইচ্ছে করে সিনেমাতে অভিনয় করার। কিন্তু শুধু একটা ভয় কাজ করে। আগের মতো সেই শ্রদ্ধা সম্মান আর নেই এখন। আমরা যখন কাজ করতাম তখন শিল্পীদের প্রতি সবার যে কী ভীষণ শ্রদ্ধা ভালোবাসা ছিল তা ভাষায় প্রকাশের নয়। ইউনিটের সবার শতভাগ খেয়াল থাকত শিল্পীদের প্রতি। কিন্তু এখন যা শুনি তাতে আর ইচ্ছে করে না। কিন্তু তারপরও মাঝে মাঝে মন মানে না, মনে হয় যে আরেকবার না হয় ফিল্মে কাজ করি। কারণ ফিল্ম থেকেই তো আমার আজকের কাবেরী হয়ে উঠা। তাই যেভাবেই থাকুক আমার চলচ্চিত্র পরিবার ভালো থাকুক।
কাবেরীর মা মালতী দে ও অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ঢাকাসহ ঢাকার বাইরে মালতী দের বেশ কয়েকটি সিনেমা হলও ছিল। কাবেরীর ভাই উত্তম আকাশ দেশের প্রখ্যাত একজন চলচ্চিত্র পরিচালক। কাবেরীর ছেলে সুদীপ দে সুমনকে সবাই চিনেন। তিনিও একজন প্রতিথযশা চলচ্চিত্র প্রযোজক। কাবেরীর স্বামী প্রদীপ দের হাত ধরেই নিবেদিতা ফিল্মসের যাত্রা শুরু হয়। এই প্রযোজনা সংস্থা থেকে বহু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের ছেলে সুদীপ দে সুমন ‘ঋদ্ধি টকিজ’ নামে প্রযোজনা সংস্থা থেকে বেশ কয়েকটি ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দেন।
