ঢাকা বুধবার ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রচ্ছদ আবহাওয়া ও জলবায়ু বৃদ্ধির পর যমুনায় কমছে পানি, ভাঙন আতঙ্ক

বৃদ্ধির পর যমুনায় কমছে পানি, ভাঙন আতঙ্ক

যমুনা নদীর পাড় ভাঙছে

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারিবৃষ্টির কারণে কয়েকদিন ধরে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে অস্বাভাবিক গতিতে পানি বৃদ্ধির পরে এবার পানি কমতে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধির পরে কমতে শুরু করায় নদীপাড়ে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে শঙ্কায় পড়েছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৩২ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার পানি কমায় বিপৎসীমার ১ দশমিক ৫৮ সেন্টিমিটার মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপৎসীমা ১২.৯০ মিটার)।

অপরদিকে জেলার কাজিপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ৩১ সেন্টিমিটার পানি কমে বিপৎসীমার ২ দশমিক ০৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপৎসীমা ১৪.৮০ মিটার)।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েকদিনে যমুনার পানি বৃদ্ধি ও কমতে শুরু করায় এক সপ্তাহ ধরে চৌহালী উপজেলার সদিয়া চাঁদপুর এলাকায় তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার অন্তত ৩০টি বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙন আতঙ্কে শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি নিয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন। ভাঙন-আতঙ্কের ছাপ স্থানীয়দের চোখেমুখে। অনেকে ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই টাকা পয়সা ও জায়গার অভাবে ঘর-বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারছে না। আসবাবপত্র গুছিয়ে রেখেছে কয়েকটি পরিবার। ভাঙনের মাত্রা বেড়ে গেলে ঘর-বাড়ি ভেঙে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত তারা। আবার কেউ কেউ তাদের সংসারের জিনিসপত্র নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে রাখছেন।
বসতভিটা হারানো কালাম শেখ বলেন, “গত বছরও নদী বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ছিল। ভাঙতে ভাঙতে বাড়ির পাশে এসে আটকে ছিল। কয়েকদিনে আবারও হঠাৎ নদীতে ভাঙনে ভিটেমাটিহারা হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।”

স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত যমুনার প্রবল স্রোতে আয়নাল শেখ, জুলমাত আলী, জুড়ান আলী, ইসলাম শেখ ও আলিম সেখের বাড়িসহ প্রায় ৩০টি বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়ে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক ইকবাল হোসেন বলেন, “চোখের সামনে ৩০টি বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেলো। হঠাৎ এমন ভাঙনে আমরা সবাই আতঙ্কিত।”

যমুনায় বসতভিটা বিলীন হওয়া আতাহার আলী বলেন, “৬৫ বছর বয়সে ১৫ বার ভাঙনের শিকার হয়েছি। কিন্তু এভাবে হঠাৎ করে যমুনার আগ্রাসী থাবায় বাড়ি বিলীন হবে কল্পনাও করিনি। শত শত ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। তবুও এই এলাকা রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসেনি।”

সদিয়া দেওয়ানতলা সংকরহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ বলেন, “ভাঙন এলাকার ৫০ মিটার দূরেই আমাদের বিদ্যালয়। পাউবো দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সেটিও যমুনায় বিলীন হয়ে যাবে।”

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকার কুদরত আলী, আনোয়ার হোসেনসহ চরাঞ্চলের বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, “গত মঙ্গলবারে একদিনে যমুনায় আড়াই ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বছরে এ সময়ে এটা একেবারেই অস্বাভাবিক। তবে আজকে সকালে পানি কমতে শুরু করেছে। পানি আবারও বৃদ্ধি পেলে শীতকালীন সবজিসহ বিভিন্ন আবাদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছি।”

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, “কয়েকদিন অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে, আজ পানি কমতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় বন্যা হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। পানি বৃদ্ধি ও কমতে থাকায় কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”

0 FacebookTwitterPinterestEmail

অনুসন্ধান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (তুহিন)

নির্বাহী সম্পাদক

সোনিয়া রহমান

অফিসঃ

৪৯ মতিঝিল (৮ম তলা), শাপলা ভবন, শাপলা চত্বর, ঢাকা - ১০০০

ই-মেইলঃ

rightwayciezs@gmail.com

টেলিফোনঃ

+৮৮ ০১৭১২-৭৭৭ ৩৬৩

মার্কেটিংঃ

+৮৮ ০১৯৪৮- ৯০০ ৯১১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব rightwaynews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত