হাজারো মানুষকে হত্যা করা ‘ফাশারের কসাই খ্যাত’ কে এই আবু লুলু
সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর এল-ফাশারে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে দুই হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষকে হত্যার অভিযোগে বিদ্রোহী গোষ্ঠী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) কমান্ডার আবু লুলুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই নেতার প্রকৃত নাম আল-ফাতেহ আবদুল্লাহ ইদরিস। তবে এখন ‘এল-ফাশারের কসাই’ নামেই বেশি পরিচিত।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আরএসএফ নেতা মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেদতি) এবং সুদানের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। চলমান সেই সংঘাতের অংশ হিসেবে আরএসএফ গত সপ্তাহে উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল-ফাশার শহর দখল করে নেয় এবং এরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়।
বিভিন্ন ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, আরএসএফের কমান্ডার আবু লুলু ঠান্ডা মাথায় একে একে মানুষকে গুলি করে হত্যা করছেন। সম্প্রতি এক লাইভে তিনি অকপটে বলেন, “আমি ২ হাজার মানুষ হত্যার লক্ষ্য নিয়েছিলাম। হয়তো তার চেয়েও বেশি হয়েছে, হিসাবটা হারিয়ে ফেলেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সংখ্যাটা ভুলে গেছি, কিন্তু আমি আবার শূন্য থেকে শুরু করব।” তাঁর এই ভয়ংকর বক্তব্য বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সামাজিক মাধ্যম টিকটক পরে তাঁর অ্যাকাউন্টটি নিষিদ্ধ করে।
গত ৩০ অক্টোবর আরএসএফ তাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, নেতৃত্বের নির্দেশে আবু লুলু ও এল-ফাশারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রকাশিত এক ছবিতে লুলুকে হাতকড়া পরানো অবস্থায় দেখা যায়।
আবু লুলু আরএসএফ নেতা হেমেদতির পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও মাহারিয়া রিজেইগাত গোত্রের সদস্য। পারিবারিক প্রভাব ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি দ্রুতই আরএসএফের বিশেষ বাহিনীতে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি গোয়েন্দা শাখায় কাজ করতেন এবং আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর সংঘাত শুরু হলে হেমেদতির ভাইয়ের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
বিবৃতিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি অবশ্য দাবি করেছে, আবু লুলুর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এর আগে গত সপ্তাহে আরএসএফ নেতা হেমেদতি স্বীকার করেন যে এল-ফাশারে কিছু লঙ্ঘন ঘটেছে এবং দাবি করেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
