যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও গত আট দিনে প্রায় ৫০ বার তা লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল, এমনটাই জানিয়েছে গাজা প্রশাসন। শুধু ত্রাণ পরিবহণে বাধাই নয়, ইসরায়েলি বাহিনী বিভিন্নভাবে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় গাজা সিটিতে চালানো এক হামলায় একই পরিবারের ১১ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজনই শিশু এবং তিনজন নারী।
টানা গোলাবর্ষণে নিহতদের মরদেহ ক্ষতবিক্ষত ও টুকরো টুকরো হয়ে যায়। গাজায় আট দিন আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটি একক হামলায় সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা।
আবুশাবান পরিবারের ওপর হামলা: জানা গেছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে গাজা সিটির জয়তুনে নিজেদের বাড়ির দিকে যাচ্ছিল আবুশাবান পরিবার। পথেই ইসরায়েলি বাহিনীর টার্গেটে পরিণত হয় তাদের গাড়িটি। মুহূর্তেই ঝরে যায় ১১টি নিরীহ প্রাণ। কেবল তাই নয়, ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় মরদেহগুলো। জাতিসংঘ ও ওসিএইচএ (OCHA)-এর সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করে আল আহলী হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ক্ষতবিক্ষত মরদেহ দেখে স্বজনদের আহাজারি ছিল হৃদয়বিদারক। একজন স্বজন আর্তনাদ করে বলেন, “টুকরো টুকরো সবাই, তারা ক্ষতবিক্ষত। আমি জানি না কাকে বিদায় দিব। আমার ছেলেকে, আমার মেয়েকে নাকি নাতিনাতনীকে? গাড়িতে থাকা নারী শিশুদের কী দোষ ছিল? কিসের ভিত্তিতে তাদের ওপর হামলা চালালো ইসরায়েলিরা? আমরা নাকি যুদ্ধবিরতির মধ্যে আছি?”
ইসরায়েলিদের দাবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য: এই হামলার প্রেক্ষিতে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযোগ, নিহতদের গাড়িটি কথিত ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করেছিল। তাদের দাবি, গতিবিধির সন্দেহভাজন ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গুলি চালানো হয়েছে।
যদিও গাজার সিভিল ডিফেন্স এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, কোনো সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। একজন প্রত্যক্ষদর্শী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মিথ্যে যুদ্ধবিরতির মধ্যে আমার বোন, তার স্বামী এবং পরিবার তাদের বাড়ি দেখতে যাচ্ছিল। তাদের অসতর্কতায় একটি ট্যাঙ্কের সামনে পড়লো এবং গোলাবর্ষণ শুরু করল। এই যুদ্ধবিরতি ঠুনকো, কেবল কাগজে-কলমে। মাটিতে আমরা মরছি, এটাই বাস্তবতা। লাল রঙে রক্ত দিয়ে মাখা যুদ্ধবিরতি—এর অর্থ কী?”
গাজা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আট দিনে প্রায় অর্ধশতবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল। এই হামলায় মোট ৩৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১৪৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া, ত্রাণ সরবরাহে বাধা তো আছেই, এখনো গাজার ৫৩ শতাংশ দখল করে রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা।
