ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় বসবাসকারী দুই সন্তানের মা কায় ব্রড সম্প্রতি একটি হৃদয়ছোঁয়া ঘটনার সাক্ষী হলেন। তার চার বছর বয়সী ছেলে অ্যাটলাসের জামা থেকে প্রতিদিন হালকা মায়ের পারফিউমের গন্ধ পাওয়া যেত, যা প্রথমে কায় সাধারণভাবে ভেবেছিলেন।
কিছুদিন পর্যবেক্ষণের পর তিনি বুঝতে পারলেন, ঘটনাটি সাধারণ ভুল নয়। আসল রহস্য লুকানো ছিল বড় মেয়ে, ১০ বছরের অ্যাভেলিনের মধ্যে। অ্যাভেলিন প্রতিদিন চুপিচুপি সকালে মায়ের পারফিউম ছিটিয়ে দিত ভাইয়ের জামায়, যাতে ছোট ভাই স্কুলে না থাকলেও মায়ের গন্ধে শান্তি অনুভব করে।
যখন কায় মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলেন কেন এমন করছে, অ্যাভেলিন বলেছিল, “ও যখন দুশ্চিন্তায় থাকে, তখন তোমার জামার গন্ধ শুঁকতে ভালো লাগে। আমি ভেবেছিলাম, যেন ও তোমার গন্ধে শান্তি পায়।” এই সরল কিন্তু গভীর চিন্তাভাবনা কায়কে আবেগময়ভাবে নাড়িয়ে দেয়।
কায় বলেন, অ্যাভেলিন সাধারণত স্বাধীনচেতা এবং আবেগ প্রকাশ কম করে, কিন্তু ছোট ভাইকে সহায়তা করার এই মিষ্টি অভ্যাস তার সংবেদনশীল দিক প্রকাশ করল। “ও নিজের মতো করে মানসিক ভারসাম্য রাখে, দুঃখ পেলে চুপচাপ কাঁদে যেন আমরা চিন্তা না করি,” যোগ করেন কায়।
অন্যদিকে ছোট ছেলে অ্যাটলাস চঞ্চল ও আবেগপ্রবণ। এই ভিন্ন মেজাজই অ্যাভেলিনকে ছোট ভাইকে শান্ত করার এই সূক্ষ্ম উপায় অবলম্বন করতে অনুপ্রাণিত করেছে। কায় বলেন, “আমি অবাক হইনি, কারণ জানতাম ও ভাইকে ভীষণ ভালোবাসে। তবে তার এই নীরব ভালোবাসা ও সূক্ষ্ম বুদ্ধি দেখে মন ভরে গেল।”
কায় প্রথমে ঘটনাটি কাউকে জানাননি। পরে তিনি থ্রেডসে পোস্ট করেন, যা ইতিমধ্যেই লাখো ভিউ, হাজারো লাইক ও মন্তব্য পেয়েছে। অ্যাভেলিন একটাই শর্ত দিয়েছিল—“সবাই যেন ভাবতে না পারে আমি সবসময় ভালো। আমি যখন ইচ্ছে করে ভালো হই, তখনই ভালো হই।”
কায় আরও বলেন, “ও খুব শান্তভাবে যত্নশীল। কখনও কিছু করতে বলা হলে করবে না, কিন্তু নিজের ইচ্ছায় এমন মিষ্টি কাজ করে। যেমন, আমি গামি ভালোবাসি—ও হঠাৎ স্কুল থেকে ফিরে বলে, ‘মা, আজ গামি পেয়েছিলাম, তোমার জন্য রেখেছি।’ সত্যি বলতে, ওর নীরব ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় কথা।”
এই গল্প শুধু পরিবারের মধ্যে নয়, সমাজের জন্যও একটি হৃদয়ছোঁয়া উদাহরণ, যেভাবে ছোট ছোট ভ্রাতৃত্ব ও স্নেহ নীরবভাবে প্রকাশ পেতে পারে।
