ঢাকা বুধবার ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৫শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রচ্ছদ সর্বশেষ ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ: আমেরিকাই গাজা যুদ্ধের মূল স্থপতি

৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ: আমেরিকাই গাজা যুদ্ধের মূল স্থপতি

ছবি: সংগৃহীত

মুক্ত গবেষণা কেন্দ্রগুলোর এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তার পরিমাণ ১৭.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পরোক্ষ সহায়তা যোগ করলে এই সংখ্যা ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হবে। এই বিশাল অঙ্কের সামরিক সহায়তার কারণে আমেরিকার অভ্যন্তরে জনমত বিভক্ত, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এই নীতির বিরুদ্ধে সরব। মেহর নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে পার্সটুডে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সহায়তার অর্থ মূলত লকহিড মার্টিন এবং বোয়িংয়ের মতো বৃহৎ আমেরিকান অস্ত্র প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ব্যয় করা হয়। এর ফলে আমেরিকার সামরিক শিল্পের জন্য একটি লাভজনক চক্র তৈরি হয়েছে, যা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

গবেষণা অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধের জন্য আমেরিকার প্রতিটি নাগরিক গড়ে ৮৫ থেকে ১৬৫ ডলার পর্যন্ত প্রদান করেছেন। অথচ আমেরিকার অনেক রাজ্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর সংকটের মুখোমুখি। সমালোচকরা বলছেন, এই বিপুল বাজেট দিয়ে আমেরিকার ৬০ লক্ষ শিশুর জন্য স্বাস্থ্য বীমা প্রদান করা যেত অথবা লক্ষ লক্ষ নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যেত।
ইসরাইলকে সামরিক সহায়তার বিষয়ে আমেরিকার জনমত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে এই বিরোধিতা সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট। সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা যায়, এই বয়সের বেশিরভাগ মানুষ ইসরাইলকে সামরিক সাহায্যের বিরোধিতা করে।
এমনকি আমেরিকার ইহুদি সম্প্রদায়ও এই নীতির সমালোচনায় মুখর হয়েছে। ‘ইহুদিদের জন্য শান্তি’র মতো আন্দোলনগুলো এই সামরিক সাহায্য অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে আমেরিকার রাজনীতিতে প্রভাবশালী লবিং গোষ্ঠী, যেমন AIPAC, এবং কংগ্রেসে আধিপত্য বিস্তারকারী দ্বিদলীয় কাঠামোর কারণে এই নীতিগুলোতে পরিবর্তন আনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার স্বাক্ষরিত ১০ বছরের চুক্তি অনুযায়ী, ইসরাইলকে বার্ষিক ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সাহায্য বরাদ্দ করা হয়, যা ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে।

এই তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে গাজায় আমেরিকার শান্তি মধ্যস্থতার দাবির আড়ালে দেশটির গভীর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ নিহিত রয়েছে। যতদিন যুদ্ধের এই লাভজনক চক্র চলতে থাকবে, ততদিন মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির কথা নিরর্থকই থেকে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

0 FacebookTwitterPinterestEmail

অনুসন্ধান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (তুহিন)

নির্বাহী সম্পাদক

সোনিয়া রহমান

অফিসঃ

৪৯ মতিঝিল (৮ম তলা), শাপলা ভবন, শাপলা চত্বর, ঢাকা - ১০০০

ই-মেইলঃ

rightwayciezs@gmail.com

টেলিফোনঃ

+৮৮ ০১৭১২-৭৭৭ ৩৬৩

মার্কেটিংঃ

+৮৮ ০১৯৪৮- ৯০০ ৯১১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব rightwaynews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত