ইরানের সেনাবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি বলেছেন, ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ১২ দিনের আরোপিত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে পরাজিত করে বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা মেহর নিউজ।
জানজান প্রদেশে ‘আবান ১৩’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। দিনটি ইরানে পালিত হয় ‘গ্লোবাল অ্যারোগ্যান্সবিরোধী সংগ্রাম দিবস’ হিসেবে, যা সাবেক মার্কিন দূতাবাস দখলের বার্ষিকীও।
সাইয়ারি বলেন, “ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে কলঙ্কিত করেছে। ইসরাইলি শাসন এখন শক্তিশালী ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো অবস্থায় নেই। তারা আরোপিত যুদ্ধে ব্যর্থ হয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রও সেই ব্যর্থতার পথেই হেঁটেছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি ইসরাইল আবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তবে ইরানের সেনাবাহিনী তাদের কঠোরভাবে পরাজিত করবে।”
রিয়ার অ্যাডমিরাল সাইয়ারি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালে ইমাম খোমেনি (রহ.)–এর প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে ইরান প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বিশ্বব্যাপী নষ্ট করতে সক্ষম হয়েছিল।
‘গ্লোবাল অ্যারোগ্যান্স’ বা বিশ্ব আধিপত্যবাদী শক্তির (যার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র) সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গত দুই বছরে মার্কিন সমর্থনে জায়নিস্ট শত্রু অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে এবং হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে শহীদ করেছে।”
১২ দিনের আরোপিত যুদ্ধের প্রসঙ্গে তিনি জানান, “যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র তার ক্রীড়নক ইসরাইলকে ইরানের বিরুদ্ধে পাঠায়। কিন্তু জায়নিস্ট শত্রু একা কিছুই করতে পারেনি। শেষে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যুদ্ধে নামে, তবু পরাজয় বরণ করতে হয়।”
মেহর নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ জুন ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে অঘোষিত ও উসকানিমূলক হামলা চালায়, যা পরে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধে রূপ নেয়। এতে ইরানের অন্তত ১,০৬৪ জন নিহত হন—যাদের মধ্যে সামরিক কর্মকর্তা, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও সাধারণ নাগরিকও ছিলেন।
যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি অংশ নেয় এবং ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়, যা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।
এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা এবং কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি যা পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
২৪ জুন ইরান সফল পাল্টা অভিযানের মাধ্যমে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন প্রতিহত করতে সক্ষম হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
