মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে চরমে উঠেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান এখন আরও তীব্র আকার নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সতর্ক করেছেন—এই সময়ের মধ্যে প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না করা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের চতুর্থ ধাপে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। শনিবার গভীর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “যদি ইরান আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো ধরনের হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না করে, তাহলে আমরা তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানব এবং সেগুলো ধ্বংস করে দেব। আমরা সবচেয়ে বড়টি দিয়ে শুরু করব।” তবে তিনি কোন বিদ্যুৎকেন্দ্রকে লক্ষ্য করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময় এলো, যখন ইরান ‘শত্রু জাহাজ’ চলাচলের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যদি তাদের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সব জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের বাইরে অন্য দেশগুলোর জন্য প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র গুদামে সাম্প্রতিক হামলার ফলে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউসের রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সামরিক বাহিনীর মূল্যায়নের মধ্যে কিছুটা অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই টানাপোড়েন এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে এটি আরও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
