কুষ্টিয়া শহরের শাফিনা টাওয়ারে পাওয়া বিলাসবহুল গাড়িটি ভারতের কলকাতায় খুন হওয়া ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের।
মঙ্গলবার (১০ জুন) মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। তিনি তার বাবার গাড়িটি ফিরে পাওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন।
ডরিন বলেন, ‘‘গাড়িটি আমাদের। আমরা গাড়িটি কারো কাছে বিক্রি করিনি। তবে গাড়িটি ওইখানে কেন, সেটাও জানি না।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমার বাবা যেভাবে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন, তাতে আমাদের গাড়ির কথা মনেই ছিল না। ৫ আগস্টের ঘটনার পর আমরা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবে গাড়িটা আমরা নিজেদের মধ্যে খোঁজাখুঁজি করছিলাম। নিজেদের মতো করেই এ নিয়ে খোঁজ নিচ্ছিলাম।’’
ডরিন বলেন, ‘‘আমার বাবার ডেথ সার্টিফিকেট ও ডিএনএ টেস্টের রেজাল্ট এখনো পাইনি। কিছুদিন আগেও ভারত থেকে ঘুরে এলাম। বাবার জানাজাটা পর্যন্ত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। যেহেতু বাবার হঠাৎ করেই এমন দুর্ঘটনা হলো, তারপর থেকে আমাদের মাথায় গাড়ির বিষয়টি ছিলই না।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘এ বিষয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তবে আমাদের গাড়িটি বুঝিয়ে দিতে তাদের সহায়তা নেব।’’
এর আগে, সোমবার রাতে কয়েক কোটি টাকার বিলাসবহুল ওই গাড়ি নিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ সৃষ্টি হলে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির ভেতর থেকে সংসদ সদস্যের স্টিকার ও কাগজপত্র জব্দ করে।
জব্দ করা একটি কাগজে মালিক হিসেবে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের নাম ছিল।
সাফিনা টাওয়ারের প্রহরী আলমগীর বলেন, ‘‘প্রায় তিন মাস আগে একটি তামাক কোম্পানির দুই কর্মকর্তা গাড়িটি রেখে যান। তাদের কোম্পানির বায়ারদের জন্য ভবনের দুই, তিন ও চার তলায় পাঁচটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া আছে।’’
