রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি ‘৯০ শতাংশ’ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
জেলেনস্কি বলেন, শান্তিচুক্তির বাকি ১০ শতাংশই ইউক্রেন ও ইউরোপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। ইউক্রেন ‘যেকোনো মূল্যে’ শান্তি চায় না। আমরা যুদ্ধের অবসান চাই, ইউক্রেনের অবসান নয়।
পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের রুশ দাবির ইঙ্গিত দিয়ে জেলেনস্কি বলেন, এমন সিদ্ধান্তের অর্থ হবে সবকিছুর সমাপ্তি। বর্তমানে ডনবাসের দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং লুহানস্ক অঞ্চলের প্রায় পুরো অংশ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নববর্ষের সংক্ষিপ্ত ভাষণে সেনাদের উদ্দেশে বলেন, তিনি তাদের ওপর এবং রাশিয়ার বিজয়ে আস্থা রাখেন।
অপরদিকে মস্কো অভিযোগ করেছে, রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লেক ভালদাই এলাকায় পুতিনের ব্যক্তিগত বাসভবন লক্ষ্য করে ইউক্রেন ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে। প্রমাণ হিসেবে ক্রেমলিন একটি মানচিত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের ভিডিও প্রকাশ করেছে। তবে কিয়েভ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কায়া ক্যালাস অভিযোগটিকে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত করার ‘পরিকল্পিত চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, ঘটনার পর শান্তি আলোচনার বিষয়ে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হবে।
এদিকে চলতি সপ্তাহে ফ্লোরিডায় নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠক হয়। জেলেনস্কির দাবি, ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে ১৫ বছরের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রস্তাব দিয়েছে, যদিও এর বাস্তবায়নের সময়সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নববর্ষের ভাষণে মস্কোর সঙ্গে ‘অজেয় জোটের’ কথা উল্লেখ করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার তথ্যমতে, রাশিয়াকে সহায়তায় উত্তর কোরিয়া হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ৬০০ জন নিহত হয়েছেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর উদ্যোগে আগামী ৬ জানুয়ারি প্যারিসে ইউক্রেনের মিত্রদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ইউক্রেনের নিরাপত্তা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো আশা করছে।
