ছবি: সংগৃহীত
গত বৃহস্পতিবার চীন তাদের বিরল খনিজ রপ্তানির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনৈতিক প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আসন্ন এশিয়া সফরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকও বাতিল হতে পারে।
বিরল খনিজ বা ‘rare earth elements’ বলতে পর্যায় সারণির ১৭টি ধাতব মৌলকে বোঝায়, যার মধ্যে স্ক্যান্ডিয়াম, ইট্রিয়াম এবং ল্যান্থানাইড সিরিজের ১৫টি মৌল (ল্যান্থানাম থেকে লুটেটিয়াম) অন্তর্ভুক্ত। যদিও পৃথিবীতে এদের প্রচলন কম নয়, তবে নিষ্কাশন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
এই খনিজগুলো দৈনন্দিন প্রযুক্তি যেমন স্মার্টফোন, উইন্ড টারবাইন, এলইডি, ফ্ল্যাট-স্ক্রিন টিভি এবং বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, যেমন এমআরআই স্ক্যানার ও ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারিতে অপরিহার্য। মার্কিন সামরিক সরঞ্জামে যেমন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, লেজার, স্যাটেলাইট এবং ক্ষেপণাস্ত্রেও এদের ব্যবহার রয়েছে।
চীন বিশ্বে বিরল খনিজ উৎপাদনের ৬১ শতাংশ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের ৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারী বিরল খনিজ উৎপাদন সীমিত, এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য চীনের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল।
চীনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে আরও পাঁচটি খনিজ (হলমিয়াম, এরবিয়াম, থুলিয়াম, ইউরোপিয়াম, ইটারবিয়াম) রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এগুলোর জন্য রপ্তানি লাইসেন্স প্রয়োজন হবে। এছাড়া খনিজ উৎপাদন প্রযুক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেও চীনের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে চীনের এই একচেটিয়ার নীতি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণকে ট্রাম্প ‘আর্থিক পাল্টা জবাব’ দেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চীনের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ খনিজ রয়েছে, যা অর্থনৈতিক প্রতিশোধে কাজে লাগানো যেতে পারে।
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এই বিরল খনিজ কেন্দ্রিক টানাপোড়েনকে নতুন ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধ বা ‘শীতল যুদ্ধের আভাস’ হিসেবে বিশ্লেষকরা দেখছেন।
