২০০৬ থেকে ২০০৮ বাংলা চলচ্চিত্রের এক রূপান্তরের সময়। সেই সময় ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে এক নামই বারবার সামনে আসে। তখন যেন সর্বত্র শোনা যেত, ‘শাকিব খান অপ্রতিদ্বন্দ্বী’, ‘এখন শাকিব খানের রাজত্ব’, ‘বাংলা চলচ্চিত্রের যুবরাজ শাকিব খান’, ‘সেরা নায়ক শাকিব খান’। অন্যরা যেখানে নিচ্ছেন ৫-৬ লাখ, সেখানে শাকিব নিচ্ছেন ১২-১৫ লাখ। কারণ তিনি ছিলেন মানিব্যাক গ্যারান্টি। হেডলাইনগুলোতেও দেখা যেত ‘এক শাকিব খানই ভরসা’, ‘এখন শাকিবের দিন’, ‘শাকিবের একক রাজত্ব’, ‘শাকিবের সিডিউল এখন সোনার হরিণ’, আরো অনেক বিশেষণ!
সত্যি বলতে, ঐ সময়টাকেই বলা যায় শাকিব খানের ক্যারিয়ারের সোনালি যুগের সূচনা। ঢালিউডে যখন মান্না, রিয়াজ, ফেরদৌস, রুবেলদের উপস্থিতি ধীরে ধীরে কমছিল, তখন শাকিব খান একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি দিয়ে নিজের অবস্থান মজবুত করেন। তরুণ দর্শকেরা তাঁকেই দেখতেন আইডল হিসেবে। প্রযোজক-পরিচালকরাও জানতেন শাকিব খান থাকলে ছবির ব্যবসায়িক দিক নিয়ে দুশ্চিন্তা কম।
২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ঢাকাই সিনেমায় আলোচনা, প্রত্যাশা আর সাফল্যের কেন্দ্রে ছিলেন একমাত্র শাকিব খান। তখনকার প্রেক্ষাপটে বলা যেত, চলচ্চিত্র মানেই শাকিব খানের ছবি। তিনি ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির চালিকাশক্তি। শোনা যায়, তাঁর উর্ধ্বমুখী জনপ্রিয়তায় কেউ কেউ ঈর্ষান্বিত হয়েছিলেন, চেষ্টাও করেছিলেন তাঁকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। কেউ সেই চেষ্টায় নিজের স্বাস্থ্যের দিকও উপেক্ষা করেছিলেন, আবার কেউবা হতাশ হয়ে চলচ্চিত্র ছেড়ে দিয়েছেন।
শাকিবের ২০০৭ সালের একটা ঘটনাকে রিভিউ করি। পি এ কাজল পরিচালিত ২০০৭ সালে আমার প্রানের স্বামী বাম্পার হিট হওয়ার পর শাকিব খানের পারিশ্রমিক ১৫ লাখ উঠে যায়। তখন এটা রীতিমত ইন্ডাস্ট্রিতে নাড়া দেয়। কারন তখন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এতো পরিশ্রমিক কেউ নেয়নি। মান্না ও শাবনুর তখন ১০ লাখের কাছাকাছি নিত। শাকিব খানের ১৫ লাখ পারিশ্রমিক শুনে শাবনুরের ইগো হার্ট হয় এবং সেও এমন দাবী করে। কিন্তু শাকিব খান আস্তে আস্তে পারিশ্রমিক আরো বাড়াতে থাকে। প্রিয়া আমার প্রিয়া রিলিজেরপর পারিশ্রমিক হয় ২৫ লাখ।
সুতরাং মান্না বেঁচে থাকতেই শাকিব খান ইন্ডাস্ট্রির সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নেয়। ২০০৭ থেকে কঠিন প্রেম,আমার প্রানের স্বামী, ১ টাকার বউ,বলবো কথা বাসর ঘরে এসব সিনেমা বাম্পার হিট হয়। কিন্তু সিনেমার ক্রেডিট যায় সব শাকিব খানের। পারিশ্রমিক বাড়ায় শাকিব খান। এসব বিষয় মানতে পারেনি শাবনুর। তাই ২০০৮-২০০৯ এরপর শাকিব খানের সাথে শাবনুর সিনেমা করেনি।
পরবর্তিতে, রিয়াজ, ফেরদৌস সহো নতুনদের সাথে অনেক ট্রাই করেও তেমন সাফল্য পায়নি শাবনুর। পরে ফিল্মইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে চলে গিয়ে বিয়ে করে অস্ট্রেলিয়ায় সেটেল হয়। ২০০৬ সালে শাকিবের পারিশ্রমিক ছিল ৬-৭ লক্ষ টাকা। ২০০৮ এ গিয়ে দাঁড়ায় ২৫ লাখ। আর এখন গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে ৩ কোটি ছাড়িয়েছে শাকিবের পারিশ্রমিক। তাই বলা যায়, শাকিবের ক্যারিয়ার সিনেমাজগতের একটা ইতিহাস, কিন্তু সেই সময়ের আলো আজও ঢালিউডে ঝলমল করে শাকিব খানের নামের সঙ্গেই।
