ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা প্রথমবারের মতো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। এই বৈঠক শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ও শনিবার (২৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার মধ্যে অব্যাহত আছে রুশ-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলা।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবারও (২২ জানুয়ারি) ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে দিনিপ্রো ও ক্রিভি রিহ শহরে বেশ কয়েকজন হতাহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েকটি আবাসিক ভবনও। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয় যাওয়ায় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় হাজার হাজার মানুষ।
শুধু কিয়েভেই তিন হাজার ভবনের বাসিন্দা শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রায় হিটিং ব্যবস্থা ছাড়াই দিন পার করছেন। বন্ধ হয়ে গেছে কিয়েভের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যেই লভিভ অঞ্চলে মস্কোর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর গোপনে তথ্য সংগ্রহকারী দুই রুশ এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে ইউক্রেনের নিরাপত্তা বাহিনী।
এদিকে গেল বৃহস্পতিবার রাশিয়ার একটি তেল টার্মিনালের পাশাপাশি ক্রিমিয়ার রাডার স্টেশনগুলোতে হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে ইউক্রেন।
অন্যদিকে ভূমধ্যসাগর থেকে রাশিয়ার একটি তেল ট্যাঙ্কার জব্দের দাবি করেছে ফরাসি নৌবাহিনী। এটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহন করছিলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযানটি একাধিক মিত্র দেশের সহায়তায় পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
এমন পরিস্থিতিতে কিয়েভ-মস্কো যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া, ইউক্রেন ও মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রথম ত্রিপাক্ষিক বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, আবুধাবিতে শুক্রবার ও শনিবার ওই বৈঠক হবে।
এর আগে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার শর্তাবলী চূড়ান্ত এবং যুদ্ধ পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনর্গঠন চুক্তিও প্রায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি।
দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নিতে আসা দেশ ও সংগঠনের মধ্যেও ইউক্রেনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্যণীয় ছিল।
