ঢাকা সোমবার ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রচ্ছদ অপরাধ ও অনধিকার যুদ্ধবিরতির পরও ত্রাণনির্ভর গাজার মানুষের ক্ষুধার যন্ত্রণা দূর হচ্ছে না

যুদ্ধবিরতির পরও ত্রাণনির্ভর গাজার মানুষের ক্ষুধার যন্ত্রণা দূর হচ্ছে না

ছবি: সংগৃহীত

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ছয় সপ্তাহ পরেও ত্রাণভিত্তিক খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে মানবিক সহায়তা সংস্থা এনেরা (Anera)। বর্তমানে গাজার বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার গরম খাবার সরবরাহ করছে সংস্থাটি।

মধ্য গাজার আল-জুয়াইদার এনেরা পরিচালিত কমিউনিটি কিচেনে বিশাল হাঁড়িতে রসুন, টমেটো ও সবজি সেদ্ধ হচ্ছে—যা বহু মানুষের একবেলার প্রাণভরানো খাদ্য।

এনেরার টিমলিডার সামি মাতার বলেন, এখন প্রতিদিন ২০ হাজারের বেশি মানুষকে খাবার দেওয়া হচ্ছে। ছয় মাস আগের তুলনায় এ সংখ্যা চারগুণ। তবে এখনো প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদান—বিশেষ করে মাংস ও মুরগি—সহজে পাওয়া যাচ্ছে না।

“সপ্তাহে আমরা মাত্র তিন ধরনের খাবার রান্না করতে পারি—ভাত, পাস্তা ও ডাল। মাঝে মাঝে কিছু সবজি দিতে পারি। প্রোটিন জাতীয় খাবার মানবিক সহায়তার মধ্যে ঢুকতে দেওয়া হয় না,” বলেন সামি মাতার।

তিনি জানান, গ্যাস সিলিন্ডার, রান্নার সরঞ্জাম ও প্যাকেজিং সামগ্রীর ঘাটতিও রয়েছে।

ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর প্রতিদিন শত শত সাহায্যবাহী ট্রাককে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে। ফলে বাজারে কিছু খাবার পাওয়া গেলেও দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

জাতিসংঘ বলছে, গাজায় এখনো হাজার হাজার পরিবার দৈনিক একটি মাত্র খাবার পাচ্ছে। রান্নাঘরের নেটওয়ার্ক মিলিয়ে এক সপ্তাহে খাবারের সরবরাহ বেড়ে দৈনিক ১৪ লাখ প্লেটে পৌঁছালেও চাহিদার তুলনায় তা কম।

গাজা সিটির বাসিন্দা, ছয় সন্তানের মা আইদা সালহা একটি ধার করা তাঁবুতে থাকছেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতির পরেও আমাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। শুধু রক্তপাত বন্ধ হওয়াটাই একটু স্বস্তি।”

উত্তর গাজার জাবালিয়ার বাসিন্দা আবদুল করিম আবদুল হাদি জানান, যুদ্ধের তৃতীয় বছরে তিনি সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব। “বাড়ি, গাড়ি, সব হারিয়েছি। খাবারের জন্য ত্রাণে নির্ভর করতে হয়,” বলেন তিনি।

শীতের শুরুতে কঠিন পরিস্থিতি আরও বাড়ছে। ক্যাম্পে থাকা পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এনেরার কর্মীরা মানুষজনের গভীর অনিশ্চয়তা ও ক্লান্তির কথা শুনছেন।

সামি মাতার বলেন, “মানুষের আশা খুব সাধারণ—একটা নিরাপদ জায়গায় শান্তিতে বাঁচতে চায়, আর নিজের সন্তানদের জন্য ভালোবাসা দিয়ে একটা গরম খাবার রান্না করতে চায়।”

0 FacebookTwitterPinterestEmail

অনুসন্ধান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (তুহিন)

নির্বাহী সম্পাদক

সোনিয়া রহমান

অফিসঃ

৪৯ মতিঝিল (৮ম তলা), শাপলা ভবন, শাপলা চত্বর, ঢাকা - ১০০০

ই-মেইলঃ

rightwayciezs@gmail.com

টেলিফোনঃ

+৮৮ ০১৭১২-৭৭৭ ৩৬৩

মার্কেটিংঃ

+৮৮ ০১৯৪৮- ৯০০ ৯১১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব rightwaynews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত