ছবি: সংগৃহীত
হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে মুক্তি পেয়েছেন ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মি। তাঁদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ‘ওয়েলকাম কিট’-এ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুর হাতে লেখা বার্তা যুক্ত করা হয়েছে।
চিঠিতে নেতানিয়াহু লিখেছেন, “ইসরায়েলি জনগণের পক্ষ থেকে তোমাদের ঘরে ফেরায় স্বাগত! আমরা তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তোমাদের আলিঙ্গন করছি। — সারা ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।”
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এই নোটের ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের জন্য তৈরি এই কিটে রয়েছে জামাকাপড়, ব্যক্তিগত সামগ্রী, একটি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও ট্যাবলেট।
এই ২০ জন বন্দির মধ্যে আছেন বার আব্রাহাম কুপারস্টেইন, এভিয়াতার ডেভিড, যোসেফ-চাইম ওহানা, সেগেভ কালফন, আভিনাতান অর, এলকানা বোহবট, ম্যাক্সিম হারকিন, নিমরোদ কোহেন, মাতান আংগ্রেস্ট, মাতান জাঙ্গাউকার, আইতান হর্ন, আইতান আব্রাহাম মোর, গালি বারম্যান, জিভ বারম্যান, ওমরি মিরান, আলন ওহেল, গাই গিলবোয়া-দালাল, রম ব্রাসলাভস্কি, এরিয়েল কুনিও ও ডেভিড কুনিও।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১,২০০ মানুষকে হত্যা ও ২৫০ জনকে জিম্মি করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এই বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গৃহীত রোডম্যাপ অনুযায়ী, হামাস পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট ৪৭ জন জিম্মিকে — জীবিত ও মৃত ফেরত দেবে। এরপর ইসরায়েল প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে।
আজ সকালে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, “গাজায় যুদ্ধ শেষ।” তিনি আজই ইসরায়েলে যাচ্ছেন এবং সেখানে মুক্তিপ্রাপ্তদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তিনি মিসরে যাবেন, যেখানে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে মিলে ২০টিরও বেশি দেশের নেতাদের নিয়ে এক শান্তি সম্মেলন আয়োজন করবেন। এই সম্মেলনের লক্ষ্য গাজা যুদ্ধের সমাপ্তি ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা।
চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েল গাজার কিছু এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি বহুজাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী দায়িত্ব নেবে।
ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে গাজা দখল করে রাখলেও ২০০৫ সালে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। পরে ২০০৭ সালে হামাস গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ২০০৮, ২০১২, ২০১৪ ও ২০২১ সালে একাধিক বড় সংঘর্ষ ঘটে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরের ওই হামলার পর, যেখানে ৬৭,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
