ছবি: সংগৃহীত
দেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে অনেকেই প্রক্রিয়ার জটিলতা এড়াতে লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালান। এতে তারা ট্রাফিক পুলিশের হাতে আটক হয়ে মামলা ও জরিমানার সম্মুখীন হন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম ধাপ হলো লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স। এজন্য লাইসেন্স প্রত্যাশীকে নিজের স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানার প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রার্থী ২–৩ মাসের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। এরপর নির্ধারিত তারিখে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টে অংশ নিতে হবে।
লাইসেন্সের বয়সসীমা:
অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম ১৮ বছর
পেশাদার লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম ২০ বছর
লার্নার লাইসেন্সের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
নির্ধারিত ফরমে আবেদন
রেজিস্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট
জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম সনদ/পাসপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি
নির্ধারিত ফী: ১ ক্যাটাগরি–৩৪৫ টাকা, ২ ক্যাটাগরি–৫১৮ টাকা
সদ্য তোলা ৩ কপি স্ট্যাম্প ও ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফী:–
(ক) ০১ (এক) ক্যাটাগরি-৩৪৫/-টাকা (শুধু মোটরসাইকেল অথবা শুধু হালকা মোটরযান অর্থাৎ যে কোনো এক ধরণের মোটরযান)
(খ) ০২ (দুই) ক্যাটাগরি-৫১৮/-টাকা (মোটরসাইকেল এবং হালকা মোটরযান একসাথে অর্থাৎ মোটরসাইকেলের সাথে যে কোনো এক ধরণের মোটরযান)
স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে কি করবেন?
লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুনরায় একটি নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফী প্রদান করে স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। গ্রাহকের বায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ) গ্রহণপূর্বক স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হয়। স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্টিং সম্পন্ন হলে গ্রাহককে এসএমএস এর মাধ্যমে তা গ্রহণের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়।
স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার পর বিআরটিএ একটি প্রাপ্তি রশিদ গ্রাহককে দিবে, যা স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স হিসেবে গণ্য করা হয়।
স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স–এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
১। নির্ধারিত ফরমে আবেদন।
২। রেজিষ্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট।
৩। ন্যাশনাল আইডি কার্ড / জন্ম সনদ/পাসপোর্ট এর সত্যায়িত ফটোকপি।
৪। নির্ধারিত ফী (পেশাদার- ১৬৮০/-টাকা ও অপেশাদার- ২৫৪২/-টাকা) বিআরটিএ’র নির্ধারিত ব্যাংকে জমাদানের রশিদ।
৫। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন।
৬। সদ্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স:
লার্নার লাইসেন্সে প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা উত্তীর্ণ হলে, প্রার্থী পুনরায় নির্ধারিত ফরম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফী জমা দিয়ে স্মার্টকার্ড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করবেন। বায়োমেট্রিক্স গ্রহণের পর লাইসেন্স ইস্যু হবে।
স্মার্টকার্ড লাইসেন্স ফী:
পেশাদার: ১,৬৮০ টাকা (৫ বছরের নবায়নসহ)
অপেশাদার: ২,৫৪২ টাকা (১০ বছরের নবায়নসহ)
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ধরন:
পেশাদার হালকা: মোটরযান ≤ ২,৫০০ কেজি, বয়স ≥ ২০ বছর
পেশাদার মধ্যম: মোটরযান ২,৫০০–৬,৫০০ কেজি, বয়স ≥ ২৩ বছর, হালকা লাইসেন্স ব্যবহার ≥ ৩ বছর
পেশাদার ভারী: মোটরযান > ৬,৫০০ কেজি, বয়স ≥ ২৬ বছর, মিডিয়াম লাইসেন্স ব্যবহার ≥ ৩ বছর
বি:দ্র: ভারী লাইসেন্সের জন্য ধাপে ধাপে হালকা ও মিডিয়াম লাইসেন্স থাকতে হবে, প্রতিটি পর্যায়ের জন্য ন্যূনতম ৩ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
লাইসেন্সপ্রাপ্তরা নিরাপদে গাড়ি চালাতে পারবেন এবং ট্রাফিক আইনের আওতায় জরিমানা বা মামলা এড়াতে পারবেন।
