লাল সবুজের জার্সিতে নাসির হোসেন সবশেষ খেলেছেন ২০১৮ সালে। ক্যারিয়ার জুড়ে নানান বিতর্কের সঙ্গে টি-টেনে অসদচারণের জন্য আইসিসির নিষেধাজ্ঞা ইঙ্গিত দিয়েছিল তাঁর ক্যারিয়ারের ইতির। না, তা হয়নি।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ঢাকা লিগ দিয়ে নাসিরের প্রত্যাবর্তন ঘটে। সোমবার (৭ এপ্রিল) হোম অব ক্রিকেটে গাজী গ্রুপ-রূপগঞ্জ টাইগার্স ম্যাচ ছাপিয়ে ম্যাচটি হয়ে যায় নাসিরময়। পারফরম্যান্সে আলো ছাড়াতে পারেননি, তবে ফিরতে পেরেই নাসির ছিলেন উৎফুল্ল।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাসির কেবল নানা প্রশ্নের উত্তর দেননি, সংবাদমাধ্যমের কাজ কেমন হওয়া উচিত সেটিও বলেছেন অবলীলায়। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে বলতে গিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর তৎকালীন নির্বাচক প্যানেলকে।
নাসির বলেন, “আমার মনে হয়, আপনি যখন নির্বাচক প্যানেলে থাকবেন… যদি বাইরের দেশে দেখেন, দুই বছর পরপর নির্বাচক প্যানেল বদলায়। ধরেন আমি নির্বাচক হিসেবে আছি। আমার চোখে কিন্তু সবাইকে সমান ভালো লাগবে না। এটাই স্বাভাবিক।”
“দুই বছর পরপর বদলালে, আমার চোখে যাকে ভালো লাগত না, অন্য কারও চোখে তাকে ভালো লাগতেও পারে। আপনি যদি এখন ৯-১০ বছর ধরে একই জায়গায় থাকেন, যাকে ভালো লাগবে না, তার তো ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে গেল প্রায়। আমি মনে করি, আমার ক্ষেত্রে এই জিনিসটা হয়েছে। আমি যদি ৫টা সুযোগ পাই, বাকিদেরও ৫টা সুযোগই পাওয়া উচিত। এমন না হয় যেন, ওরা ২০টা সুযোগ পেল, আমি ৫টা সুযোগ পেলাম। আমার মনে হয়, আমার ক্ষেত্রে এই জিনিসটাই হয়েছে।”- আরো যোগ করেন নাসির।
নিষিদ্ধ হওয়ার আগে ২০২৩ সালের বিপিএলে দুর্দান্ত খেলেছিলেন নাসির। ঢাকার জার্সিতে ১২ ম্যাচে নাসির ৩৬৬ রান করেছিলেন। ৪৫.৭৫ গড়ে ১২০ স্ট্রাইকরেটে ছন্দময় ব্যাটিং করেছেন পুরো আসর জুড়েই। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও সমান সাফল্য পেয়েছিলেন। ১২ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টে দলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন তিনি।
“আমার মনে হয় যারা ক্রিকেট খেলে, জাতীয় দলে খেলার জন্যই খেলে। আমিও স্বপ্ন দেখি। এটা বিশ্বাস করি, এখনও সুযোগ আছে। যদি পারফর্ম করতে পারি অবশ্যই জাতীয় দলে খেলতে পারব। আপনি পারফর্ম করলে সেটার মূল্যায়ন যদি ক্রিকেট বোর্ড করে, তাহলে আপনি পারফর্ম করতে পারবেন।”
নির্বাচকরা কি তাকে পছন্দ করতেন না? নাসিরের স্পষ্ট উত্তর, “হইতে পারে। আমার কাছে তা-ই (পছন্দ হয়নি দেখে সুযোগ পাইনি) মনে হয়।”
