ছবি: সংগৃহীত
স্পেনের পাহাড়ি গুহায় পরিত্যক্ত এক শকুনের বাসা থেকে উদ্ধার হলো ৬৭৫ বছরের পুরোনো স্যান্ডেল! আশ্চর্যজনকভাবে অক্ষত এই প্রাচীন জুতো জোড়া বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে। শুধু স্যান্ডেলই নয়, সঙ্গে পাওয়া গেছে একটি প্রাচীন বর্শার ডগা ও রঙ করা চামড়ার টুকরো—যা সময়ের গভীর আড়াল থেকে যেন এক ‘প্রাকৃতিক টাইম ক্যাপসুল’-এর দুয়ার খুলে দিয়েছে।
এই অসাধারণ আবিষ্কার করেছেন স্প্যানিশ ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের পরিবেশবিদ অ্যান্টনি মার্গালিদা ও তাঁর সহকর্মীরা। তাঁরা দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণ স্পেনের পাহাড়ে বিপন্ন প্রজাতির বেয়ারডেড শকুন (Bearded Vulture) নিয়ে গবেষণা করছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ইকোলজি-তে প্রকাশিত তাঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শকুনদের বাসা থেকে উদ্ধার পাওয়া এই বস্তুগুলো ১৩শ শতাব্দীর সময়কার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্গালিদা বলেন, “আমরা কোনোভাবেই আশা করিনি যে এতো পুরোনো জিনিস এত ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকতে পারে। এটি যেন প্রকৃতির মধ্যেই লুকিয়ে থাকা এক জাদুঘর।”
গবেষক দলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বেয়ারডেড শকুনরা সাধারণত পাহাড়ের গুহার ভিতরে বাসা তৈরি করে, যেখানে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় প্রায় একই থাকে। এই বিশেষ পরিবেশই স্যান্ডেল, দড়ি বা চামড়ার মতো জিনিসের সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব বস্তু শকুনরা বাসা তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করেছিল।
আবিষ্কৃত নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘাসের দড়ি দিয়ে তৈরি স্যান্ডেলের অবশিষ্টাংশ, প্রাচীন বর্শার মাথা এবং রঙিন চামড়ার টুকরো। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এসব বস্তু স্থানীয় মধ্যযুগীয় জনগোষ্ঠীর হাতে তৈরি ছিল এবং হয়তো শিকার বা দৈনন্দিন ব্যবহারের সময় হারিয়ে গিয়েছিল।
গবেষক মার্গালিদা বলেন, “শকুনরা মানুষের তৈরি জিনিস সংগ্রহ করে রাখার এক অদ্ভুত অভ্যাস গড়ে তুলেছে। যেন তারা নিজের অজান্তেই প্রকৃতির মধ্যে একটি জীবন্ত আর্কাইভ তৈরি করে ফেলেছে।”
উল্লেখ্য, একসময় ইউরোপজুড়ে দেখা যেত এই শকুন প্রজাতি। কিন্তু শিকার ও মানব কার্যকলাপের কারণে তা এখন বিপন্ন। এমনকি ১৯৫০ সাল পর্যন্ত স্প্যানিশ সরকার এই শকুন নিধনে আর্থিক পুরস্কারও দিত।
শত শত বছর পর তাদের পরিত্যক্ত বাসা থেকেই উঠে এলো ইতিহাসের এক বিস্ময়কর দলিল—যা শুধু পরিবেশ নয়, মানবসভ্যতার অতীত নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বিজ্ঞানীদের।
