তবে কি আক্রমণ চালানোর খুব কাছাকাছি সময়ে চলে এসেছে ইরান? যেকোনো সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি আছড়ে পড়বে ইসরাইলের ওপর? এমনটাই যেন ইঙ্গিত দিলেন ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি কমিশনের প্রিসাইডিং বোর্ডের একজন সদস্য। তিনি জানালেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুতির শীর্ষে রয়েছে এবং যেকোনো হুমকির মোকাবেলা করা হবে কঠিনভাবে।
শত্রুকে চূড়ান্ত জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান
ইব্রাহিম রেজায় মেহের নিউজ এজেন্সির সাথে এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসন ঘটলে শত্রুর জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। দেশটির প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন:
“আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে আজকের ইরানের প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধ প্রস্তুতি চার মাস আগের তুলনায় অনেক বেশি। এবং আমরা প্রস্তুতির শীর্ষে রয়েছি এবং যেকোনো আগ্রাসনের চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে।”
ইব্রাহিম রেজাই বলেন, “শত্রুরা ইরানে আক্রমণ করার অবস্থানে নেই। তারা সত্যিই বুঝতে পারছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কতটা বেড়েছে।”
‘স্ন্যাপব্যাক’ নিষেধাজ্ঞা ইরানকে প্রভাবিত করবে না
‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ইরানি সংসদ স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়ার সক্রিয়করণকে অবৈধ বলে মনে করে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য এটিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তাঁর মতে, স্ন্যাপব্যাক মেকানিজমের অধীনে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করা ইরানকে প্রভাবিত করবে না।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য তিনটি ইউরোপীয় দেশকে নিন্দা জানিয়েছিল।
অতীতের হামলা ও ইরানের প্রতিশোধ
চলতি বছরের ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের ওপর একটি বিনা প্ররোচনামূলক যুদ্ধ শুরু করে। ১২ দিনের সেই যুদ্ধে ইসরাইল ইরানের সামরিক, পারমাণবিক এবং আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তীতে ২২ জুন ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা, নাতাঞ্জ, ফরদো এবং ইস্পাহানে হামলা চালিয়ে সংঘর্ষ বাড়িয়ে তোলে।
সে সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরাইলকে তাৎক্ষণিক এবং শক্তিশালী জবাব দেয়।
আইআরজিসি-এর অ্যারোস্পেস ফোর্স অপারেশন টু প্রমিস থ্রি-এর অধীনে প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরাইলের ওপর, যাতে ইসরাইল ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হয়—এমনটি হয়তো তারা কল্পনাও করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানি বাহিনী কাতারে অবস্থিত আল-উদেদ বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি।
২৪ জুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে এই সংঘর্ষের সমাপ্তি ঘটে।
