প্রাচীন বিশ্বের সাত আশ্চর্যের একটি—গিজার মহা পিরামিডের পাশেই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো মিশরের গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম (GEM)। প্রায় ১ লাখ প্রত্নবস্তু নিয়ে এটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর।
এই জাদুঘরে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে প্রদর্শিত হচ্ছে বিখ্যাত ফেরাউন তুতানখামেনের সমাধি থেকে উদ্ধার করা সব নিদর্শন—তার সোনার মুখোশ, সিংহাসন, রথসহ ৫,৫০০টিরও বেশি বস্তু।
প্রকল্পটির ব্যয় হয়েছে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার, যা মিশরের পর্যটনে নতুন প্রাণ ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাদুঘরটি বছরে প্রায় ৮০ লাখ পর্যটক আকর্ষণ করতে পারে বলে ধারণা।
জাদুঘরের সাবেক প্রধান ও মিশরবিদদের আন্তর্জাতিক সমিতির সভাপতি ড. তারেক তাওফিক বলেন, “এই জাদুঘরে টুটানখামেনের সমাধির সবকিছুই দেখা যাবে এক জায়গায়, যেন মানুষ শত বছর আগের সেই আবিষ্কারের অভিজ্ঞতা অনুভব করতে পারে।”
গিজা মালভূমিতে নির্মিত ৫ লাখ বর্গমিটারের এই জাদুঘরে রয়েছে ফারাও রামেসিস দ্বিতীয়ের ১১ মিটার উচ্চ মূর্তি ও ৪,৫০০ বছরের পুরোনো রাজকীয় নৌকা। বিশাল সিঁড়িঘর ও কাঁচের দেয়াল দিয়ে পিরামিডের অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায় এখান থেকে।
১৯৯২ সালে পরিকল্পনা নেওয়া হলেও, বিপ্লব, আর্থিক সংকট ও কোভিডের কারণে দীর্ঘ বিলম্বে আজ তা বাস্তব রূপ পেয়েছে।
প্রবীণ প্রত্নতত্ত্ববিদ ড. জাহি হাওয়াস বলেন, “এটি প্রমাণ করে মিশরীয়রা নিজেরাই তাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সক্ষম।” তিনি একইসঙ্গে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের রোজেটা স্টোন, ল্যুভরের ডেন্ডেরা জোডিয়াক ও বার্লিনের নেফারতিতির ভাস্কর্য ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাদুঘরের উদ্বোধনের মাধ্যমে মিশর আশা করছে এক নতুন ‘গোল্ডেন এজ অব ইজিপ্টোলজি’, যেখানে প্রাচীন ইতিহাসের পাশাপাশি আধুনিক মিশরের গৌরবও একসঙ্গে প্রতিফলিত হবে।
