ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির শত শত কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগের আবেদন জমা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ হলো সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ‘চিফ অব স্টাফ ইনক্রিজেস’ নামে পরিচিত দীর্ঘদিনের আর্থিক সুবিধা স্থগিত ঘোষণা। সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদত্যাগে আগ্রহীদের বেশিরভাগই ৪২ বছরের বেশি বয়সের। তারা মাস শেষ হওয়ার আগেই বাহিনী ছাড়তে চান, কারণ ওই সময় সুবিধা স্থগিত কার্যকর হবে এবং আইনগত সুরক্ষা থাকবে না।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের জুনে সমঝোতায় পৌঁছালেও বিষয়টি নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে আটকে যায়। এমকে আমিত হালেভির আপত্তির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সেনাদের ধরে রাখার অন্যতম উপায় হলো এই আর্থিক সুবিধা। তার স্থগিতাদেশে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। গাজায় চলমান যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব প্রথমে এই বিষয় এড়াতে চেষ্টা করেছিল। তবে আদালতের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় আইন দ্রুত সংশোধনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রত্যাশা, সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের জন্য একটি বিশেষ বৈঠক ডাকবেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম বিশ্লেষণ করেছে, সৈন্যদের আর্থিক নিরাপত্তা ভেঙে পড়ায় অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, ক্লান্তি ও অসন্তোষে সেনাবাহিনী তাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গভীর অস্থিরতার মুখোমুখি হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ যেমন গ্রান্ট, বাসস্থান সহায়তা, পারিবারিক কর্মসূচি প্রয়োগের পরেও পদত্যাগ আটকানো সম্ভব হয়নি।
কর্মকর্তারা সতর্ক করছেন, মধ্যম ও সিনিয়র পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদত্যাগ সেনাবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক মহলে ব্রিজ পেনশন কমানো বা পরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের জন্য এই পেনশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেসামরিক খাতের তুলনায় তাদের বেতন অনেক কম। সেনা কর্মকর্তারা সুবিধা কমানোর যেকোন উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে সিনিয়র সার্জেন্ট, লেফটেন্যান্ট ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা বাহিনী ছেড়ে চলে যেতে পারেন।
