বিগত সরকারের সময়ে লুটপাটের আখড়া হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল পুঁজিবাজার
বিগত সরকারের সময়ে মাফিয়া চক্রের লুটপাটের আখড়া হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল পুঁজিবাজারকে। অনিয়মের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সর্বস্বান্ত করেছে একটি বিশেষ শ্রেণি। এরই মধ্যে গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই শ্রেণির অবসান হলে বাজারে সূচক ও মূলধন অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকেনি এই ধারাবাহিকতা। এমন এক পরিস্থিতিতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাশেদ মাকসুদ দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজার উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপসহ সংস্কার কমিটি গঠন করে পূঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। কিন্তু এক বছর পার হলেও সংস্কার কমিটির সুপারিশ এবং বাজার উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে ফের আস্থাহীনতায় বাজার ছেড়েছেন হাজারো বিনিয়োগকারী।
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশের (সিডিবিএল) তথ্যমতে, ঠিক ৫ মাস আগে অর্থাৎ গত ২১ মে পুঁজিবাজারে মোট বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫১১টি, যা সর্বশেষ গত ২২ অক্টোবর বুধবার ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ৩৫টি তে নেমে আসে। অর্থাৎ গত ৫ মাসে পুঁজিবাজারে ৪৭ হাজার ৪৭৬টি হিসাব বন্ধ হয়েছে।
তবে যে ১৬ লাখ ৪৩ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাদের অধিকাংশই পুঁজিবাজারে নিয়মিত ট্রেড করছে না। গত বুধবারের সর্বশেষ তথ্যমতে বিও অ্যাকাউন্ট থাকা সত্ত্বেও এসব হিসাব ব্যবহার করে কখনোই ট্রেড বা লেনদেন হয়নি এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৬৬ হাজার ৫৯৩টি। আবার বিও হিসাবে থাকা সকল সিকিউরিটিজ নগদায়ন বা সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করে হিসাব শূন্য করেছে এমন বিও হিসাবের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৩৬৪টি। গত এক সপ্তাহ আগে এই সংখ্যাটা ছিল ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৭১টি। অর্থাৎ মাত্র ১ সপ্তাহে নতুন করে হিসাব শূন্য করেছে ১ হাজার ২৯৩ জন বিনিয়োগকারী।
অপরদিকে গত ৫ মাসে দেশের পূঁজিবাজার ছেড়েছে প্রায় ৩ হাজার বিদেশে বিনিয়োগকারী। গত ২১ মে বিদেশি বিনিয়োগকারী বিও ছিল ৪৬ হাজার ৩৩৭টি, অথচ সর্বশেষ গত বুধবারে তা ৪৩ হাজার ৬১৫টিতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ২ হাজার ৭২২টি বিদেশি বিও হিসাবধারী এই সময়ে পুঁজিবাজার ছেড়েছে।
একই সময়ে মার্কেট ক্যাপিটাল কমেছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ গত সোমবার বাজার মূলধন ৭ লাখ ৩ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকায়, যা এক মাস আগেও সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৩১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা ছিল। অর্থাৎ গত ১ মাসে বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ২৭ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বে নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজার সংস্কারে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। শেয়ারবাজারে আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে ১৭টি বিষয়ে সংস্কার সুপারিশ প্রণয়নে গত বছরের অক্টোবরে সংস্কার টাস্কফোর্স গঠন করে বিএসইসি। এসবের মধ্যে ছিল বিনিয়োগকারীদের জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে- ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় টক শো ও বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, বিআইসিএম ও বিএএসএম কর্তৃক পুঁজিবাজার-বিষয়ক শিক্ষণীয় ভিডিও তৈরি, ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুঁজিবাজার নিয়ে ইতিবাচক বার্তা প্রচার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সচেতন করা।
এ ছাড়া পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ও বাজারে তারল্য বাড়াতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ রাষ্ট্রমালিকানাধীন লাভজনক কোম্পানির শেয়ার অফলোড করা, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকা-ভুক্তিতে উৎসাহিত করা এবং টেক্সটাইল ও ওষুধ খাতের দেশি লাভজনক কোম্পানিগুলোর শেয়ার পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা।
এ ছাড়া যেসব কোম্পানি এখনো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি, তাদের তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করার জন্য আকর্ষণীয় করছাড় প্রদান এবং ব্যাংক থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ সীমিত করে পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
পাশাপাশি পুঁজিবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে আর্থিক খাতের অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, জাতীয় বাজেটে বিনিয়োগকারীদের জন্য করছাড় সুবিধা দেওয়া, লভ্যাংশ আয়ের ওপর করছাড় এবং পুঁজিবাজারের বিনিয়োগের ওপর বিশেষ করছাড়ের সুবিধা প্রদান।
কিন্তু এসব পদক্ষেপের কতটুকু কার্যকরা করা গেছে এবং এতে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না- এ নিয়ে যথেষ্ট আপত্তি সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টদের। তারা জানান, গত বছরের ১৮ আগস্ট রাশেদ মাকসুদ দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১ বছরে জরিমানা করা ছাড়া বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। এই সময়ে জরিমানা করা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা, যদিও আদায় হয়নি এক টাকাও। ক্রমাগত দর পতনে বিনিয়োগকারীরা ২০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পুঁজি হারিয়েছেন।
এর মধ্যেও ২৫-৩০টি শেয়ার নিয়ে কারসাজি হয়েছে, যা ঠেকাতে পারেনি কমিশন। এমনকি অতিসম্প্রতি শ্যামপুর সুগার, মাগুরা কমপ্লেক্স, মনোস্পুল বাংলাদেশ, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজসহ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি হয়েছে। অপরদিকে এই সময়ে বাজারে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়নি। ফলে শুধু বৈঠক সর্বস্ব কমিটির বাস্তব ফলাফল শূন্য।
শীর্ষ বাজার মধ্যস্থতাকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, কমিশন আদতে কী সংস্কার করছে, তা তারা জানেন না। বিএসইসি গঠিত সংস্কার টাস্কফোর্স স্রেফ আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড এবং মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধন নিয়ে বেশি আগ্রহী ছিল। বিগত কমিশনের সময়ে কী কী দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে, কোন দুর্বলতায় সেগুলো সংগঠিত হলো, কমিশনের চেয়ারম্যানসহ কতিপয় কমিশনার ও কর্মকর্তা কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করলেন, কেন তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেল না এবং ভবিষ্যতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় কীÑ এসব নিয়ে সংস্কার কমিটির কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।
এমনকি পুঁজিবাজার উন্নয়নে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনারও প্রতিফলন নেই। শেয়ারবাজারে ক্রমাগত দর পতনে মানুষের ক্ষোভ বাড়লে গত ১১ মে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের জরুরি বৈঠকে তিন মাসের মধ্যে শেয়ারবাজার সংস্কার করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ করে পরামর্শ ও সুপারিশ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো পরামর্শক নিয়োগ হয়নি। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিএসইসির এক কর্মকর্তা বলেন, সর্বশেষ জুনে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ বিষয়ে ফাইল দেখেছিলেন, তাতে ‘টার্মস অব কন্ডিনেশন’ কী হবে, তার উল্লেখ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এ বিষয়ে কি অগ্রগতি হয়েছে তা জানাতে পারেননি।
একই সঙ্গে দেশীয় বড় কোম্পানির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে নির্দেশনা দেন। এ নিয়ে বিএসইসি বেশকিছু বৈঠক করলেও ফলাফল শূন্য। সরকারি কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিষয়েও অগ্রগতি নেই। বড় কোম্পানিগুলোকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যানের আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে কমিটিও হয়েছে। এ ছাড়া বিগত সময়ের হওয়া অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা।
এর প্রেক্ষিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। তবে এই জরিমানার তুলনায় আদায় নেই বললেই চলে। পুঁজিবাজারে দৃশ্যত সংস্কার ও উন্নয়নের পরিবর্তে এই ধরনের জরিমানা আরোপকে বাজারের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।
এ বিষয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. মহসীন জনকণ্ঠকে বলেন, জরিমানা প্রথম দিকেই করা উচিত ছিল। এখন যখন মার্কেট ভালোর দিকে যাচ্ছে সে সময় ডেকে এনে জরিমানা করায় নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট পড়ছে। তা ছাড়া যে জরিমানা করছে তা আদায়ও হচ্ছে না। কারসাজি করে কোনো শেয়ারের দাম বাড়লে ডিএসই কারণ জানতে চায়, কিন্তু যখন শেয়ারের দাম ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে তখন তো কারণ জানতে চায় না। এসব কারসাজিতে ডিএসই সবার আগে জড়িত।
একই কথা জানিয়েছেন পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী। তবে কারসাজির জন্য ডিএসইর পাশাপাশি অডিট ফার্ম, ইস্যু ম্যানেজার এবং কোম্পানিগুলোকেও শাস্তি ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, তালিকাভুক্তির সময় কোম্পানির ইপিএস, এনএভি ভালো, ব্যবসার প্রবৃদ্ধি উচ্চ থাকে। কিন্তু ইস্যু হওয়ার পরই সব নেগেটিভ হয়ে যায়। এসবের পেছনে ইস্যু ম্যানেজার এবং অডিট ফার্ম জড়িত। পাশাপাশি স্টক মার্কেট ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারাও জড়িত। আমাদের স্টক মার্কেটে ওটিসি, জেড ক্যাটাগরির মতো কিছু অপশন আছে, যা বিশ্বের কোনো স্টক মার্কেটে নেই। প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দিতে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এসব চালু করেছে। অর্থাৎ এসব কোম্পানি ট্রেড করতে পারবে, কিন্তু জবাবদিহিতা থাকবে না। তাদের এজিএম-ইজিএম লাগে না।
তবে দেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থার জন্য বিনিয়োগকারীদের ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসির (আর্থিক জ্ঞান) ঘাটতি আছে বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আল-আমিন। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারে কোনো নিয়মনীতি গ্রো করেনি। এটা হয়েছে গুজবনির্ভর। ইনভেস্ট করতে গেলে এনএভি, ইপিএস, পে-আউট ইত্যাদি যে ধরনের প্যারামিটার দেখতে হয়, তা কিছুই দেখা হয় না। পুরোটাই হয় গুজবের ওপর ভিত্তি করে। সে জন্যই যে ফাইন করা হচ্ছে তা যৌক্তিক কারণেই হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, আদায় তো হচ্ছে না। আদায় কি হবে না হবে, সেটা আদালতই ঠিক করবে। আদালত পর্যন্ত নেওয়ার আগে যে সব আইনগত কাজ রয়েছে সেগুলো করে যেতে হবে।
তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ হলো নিয়ম-শৃঙ্খলা দেখাশোনা করা। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর যখন দাম বাড়লো কেউ কিন্তু প্রশ্ন তোলেনি। কারণ তার ফান্ডামেন্টালসহ প্রতিবেদন সব কিছুই ভালো। একই সময়ে বাজারে কারসাজিচক্র যখন সক্রিয় হয়ে মৌলভিত্তিহীন কোম্পানি দাম বাড়াচ্ছে এবং এসইসির পদক্ষেপে যখন আবার দাম কমছে তখন যদি বলেন মার্কেট খারাপ হচ্ছে, তার মানে হলো কারসাজি চক্রকে ব্ল্যাঙ্ক চেক দেওয়া। সে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে। ফলে যারা বলছে জরিমানার কারণে মার্কেট নষ্ট হচ্ছে আমি মনে করি তারা একটা বিশেষ গোষ্ঠী।
পুঁজিবাজার উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপ ও তার প্রভাব সম্পর্কে বিএসইসি মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, নতুন কমিশন আসার পর যে পদক্ষেপ নিয়েছিল তা হলোÑ অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠন। সে অনুযায়ী তারা ১২টি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এর মধ্যে ৭টি রিপোর্টের ওপর ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন। ২টি রিপোর্ট আদালতের বিচারাধীন হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। অন্য রিপোর্টগুলো নিয়ে কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই পুঁজিবাজার অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটির এই কাজগুলো শেষ হবে।
তিনি বলেন, আরেকটি পদক্ষেপ ছিল টাস্কফোর্স গঠন। টাস্কফোর্সের কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম ৩টি প্রধান কাজ ছিল মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, পাবলিক ইস্যু রুলস এবং মার্জিন রুল। এই ৩টা কাজই হয়েছে। ইতোমধ্যে মার্জিন রুল এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা কমিশন অনুমোদন করেছে। মার্জিন রুল নিয়ে জনমত গ্রহণ নেয়া হয়েছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে যে কোনো সময় কমিশন প্রকাশ করবে। মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালাও খুব শীঘ্রই জনমত গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পাবলিক ইস্যু রুলও কমপ্লিট হয়ে গেছে। এটা হয়তো আগামী বৈঠকে কমিশন অনুমোদন দিয়ে জনমতের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে।
আবুল কালাম বলেন, প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে যে ৫ দফা নির্দেশনা ছিল তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠান বা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা। এই কাজগুলো কমিশন করে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকেও ওইসব কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে আমরা গণমাধ্যমকে অবহিতও করেছি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ মেয়াদি অর্থায়নে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে তৈরি করার বিষয়ে যেটা বলা হয়েছে তা হলো বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি যৌথ কমিটি কাজ করছে। ইতোমধ্যে এই কমিটি রিপোর্টও দিয়েছে কিভাবে পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন তথা বন্ড মার্কেট উন্নয়ন করা যায়, তা নিয়ে। এটা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি’র পক্ষ থেকে জাতীয় পর্যায়ে একটি সম্মেলন করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ কমিশনের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপই এখন শেষের দিকে।
নতুন কোম্পানি আইপিওতে না আসা বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এ জন্য আমাদের পাবলিক ইস্যু রুলস নিয়ে আগে কাজ করতে হবে। আগে ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসলে সেভাবে প্রাইসিং পেত না। আরেকটি কারণ হতে পারে ২০১৫ সালের পাবলিক ইস্যু রুলে কোনো কোম্পানি যেনতেনভাবে পূঁজিবাজারে আসলেই ক্যাপিটাল রেইজ করতে পারতো। ফুলিয়ে ফাপিয়ে তথ্য দিয়ে আইপিওতে আসতে পারতো। কিন্তু বর্তমান কমিশনে সেটা সম্ভব হবে না, হয়তো এ কারণেই তারা সাহস করছে না। আইনের যথাযথ পরিপালন সাপেক্ষেই অনুমোদন দেবে, এটা হয়তো না আসার একটা কারণ।
