ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল— এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা জন কিরিয়াকু। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বিপুল অর্থের বিনিময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফ যুক্তরাষ্ট্রকে এই ক্ষমতা দিয়ে রেখেছিলেন।
জন কিরিয়াকু সিআইএর সন্ত্রাস দমন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, “আমি দায়িত্বে থাকাকালীন পাকিস্তানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হতো, কেউ জানত না। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত পারভেজ মোশাররফকে কিনে নিয়েছিল।”
তিনি আরও দাবি করেন, মোশাররফের শাসনামলে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ছিল। “মোশাররফ আশঙ্কা করতেন, এই অস্ত্রগুলো জঙ্গিদের হাতে চলে যেতে পারে। সেই ভয় থেকেই তিনি নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে তুলে দেন,” বলেন কিরিয়াকু।
সাবেক এই সিআইএ কর্মকর্তা আরও জানান, সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক হতো, এবং মোশাররফকে ব্যক্তিগতভাবেও প্রচুর অর্থ সহায়তা দেওয়া হতো।
এছাড়া সাক্ষাৎকারে কিরিয়াকু জানান, আলকায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেন নারী সেজে আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। তার এই পালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিল মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডে কর্মরত একজন আলকায়দা গুপ্তচরের সহায়তায়। “এই অনুবাদক মার্কিন বাহিনীতে কাজ করার আড়ালে জঙ্গিদের তথ্য দিতেন। তার সহায়তায় লাদেন বোরকা পরে তোরা বোরার পাহাড়ি অঞ্চল থেকে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন,” দাবি করেন কিরিয়াকু।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের নির্দেশেই পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানী আব্দুল কাদের খানকে হত্যা করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারভেজ মোশাররফের সময়কালেই পাকিস্তানের রাজনীতি ও সামরিক কাঠামোয় মার্কিন প্রভাব সবচেয়ে গভীরভাবে বিস্তৃত হয়েছিল। কিরিয়াকুর এই মন্তব্য সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিল।
