কলকাতার বাংলা সিনেমায় খল চরিত্রে যাদের উপস্থিতি দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম দুজন কিংবদন্তি অভিনেতা হলেন দীপঙ্কর দে এবং দুলাল লাহিড়ী। দু’জনেই এমনভাবে নেগেটিভ চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন যে, দর্শক কখনো তাদের ঘৃণা করেছে চরিত্রের জন্য, আবার প্রশংসায় ভরিয়েছে তাদের অসাধারণ অভিনয় দক্ষতার জন্য।
দীপঙ্কর দে সবসময়ই ছিলেন গম্ভীর, দৃঢ়চেতা এবং সংলাপের তীক্ষ্ণতায় ভরপুর এক অভিনেতা। তাঁর চোখের দৃষ্টি আর ভারী কণ্ঠস্বর অনেক সময়ে পুরো দৃশ্যের আবহটাই পাল্টে দিত। তিনি শুধু খল চরিত্রেই নয়, প্রজ্ঞা ও গভীরতার মিশ্রণে যেকোনো চরিত্রে নিজেকে আলাদা করে তুলতে পারতেন। তাঁর অভিনয়ে ছিল রাজকীয় ব্যক্তিত্বের ছোঁয়া, যা দর্শককে মুগ্ধ করত।
অন্যদিকে দুলাল লাহিড়ী ছিলেন পর্দার রঙিন খলনায়ক—চতুর, রসিক, অথচ ভয়ংকর। তাঁর মুখের অভিব্যক্তি, সংলাপের ছন্দ, আর হাসির ভেতর লুকিয়ে থাকা হুমকি—সব মিলিয়ে তাঁর খল চরিত্রগুলো দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। নাটক, সিরিয়াল কিংবা সিনেমা—সব মাধ্যমেই তিনি নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন একের পর এক।
দীপঙ্কর দে এবং দুলাল লাহিড়ী—দু’জনের অভিনয়ই প্রমাণ করে যে, খল চরিত্র মানেই শুধু নেগেটিভ নয়; বরং এটি এমন এক শিল্প, যেখানে আবেগ, কৌশল এবং অভিজ্ঞতার নিখুঁত মিশ্রণ প্রয়োজন। আজও তারা পর্দায় উপস্থিত হলে দর্শক জানে—একটা অসাধারণ দৃশ্য আসছে। কলকাতার বাংলা সিনেমায় তাদের অবদান তাই চিরস্মরণীয়, অনন্য এবং অনুপ্রেরণাদায়ক।
