অভিনেত্রী পরীমনি এবার তার জীবনের এক কঠিন বাস্তব অধ্যায়কে বড় পর্দায় তুলে ধরতে যাচ্ছেন। চার বছর আগে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ড ও কারাবাসের যে তিক্ত অভিজ্ঞতা তিনি সেসময় অর্জন করেছিলেন, সেটিই এবার রূপ নিতে পারে সিনেমার কাহিনিতে।
২০২১ সালে র্যাব তার রাজধানীর বাসায় প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দ করে। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই ঘটনায় পরীমনি তিন দফায় মোট সাত দিনের রিমান্ডে ছিলেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী। রিমান্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রিমান্ড একটা ফালতু জিনিস। সেখানে মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য বড় বড় ছবি টানানো থাকে, কিন্তু এগুলো দেখে কেউ ভয় পায় না। আমি বলেছিলাম, এগুলো বদলানো উচিত।”
কারাগারে তার প্রতি আচরণ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে পরী জানান, “আমাকে কেন আটক করা হয়েছিল, সেটা ওরাও জানত না। একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করত, ওরা নিজেরাই বিভ্রান্ত ছিল।”
পরীমনি আরও জানান, জেল থেকে মুক্তির পর তিনি সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই লিখেছেন। বইটি ভবিষ্যতে প্রকাশ করবে তার ছেলে। পাশাপাশি, সেই বইয়ের গল্প থেকেই সিনেমা তৈরি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তার ভাষায়, “আমার ছেলে বড় হয়ে বইটা প্রকাশ করবে। চাইলে এটাকে সিনেমা বানাতেও পারি।”
কারাবাসের সময়কার অনুভূতি নিয়ে পরীমনি বলেন, “জেলখানা নিয়ে আমি কখনো কিছু বলিনি, বলতেও চাই না। কারণ সত্যিটা মানুষ জানলে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারাবে।”
তবে কারাগারের খাবার নিয়ে তার অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই আলাদা। পরীমনির মতে, “জেলের খাবার আসলে খুবই স্বাস্থ্যকর। অনেক সময় খাবার নষ্টও হয়। রান্না হয় একদম ফ্রেশভাবে, আর পুরো জায়গাটা বেশ ভালোভাবে মেইনটেইন করা হয়।”
