ছবিঃ সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী রাষ্ট্র ইরান এবার এক ভিন্ন ধরনের সংকটের মুখোমুখি। যে দেশ তার মিসাইল কারখানা ২৪ ঘণ্টা ব্যস্ত রাখে পরবর্তী যুদ্ধের প্রস্তুতিতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণ সামলাতে সক্ষম, সেই দেশটি এখন পানির অভাবে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে।
তেহরানের প্রধান জলাধার আমির কাবির বাঁধের পানি মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে, এমন সতর্কতা দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ। শহরের পানি সরবরাহকারী সংস্থার পরিচালক বেহজাদ পারসা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাঁধে মাত্র এক কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার পানি রয়ে গেছে, যা শহরের জন্য মাত্র ১৪ দিন পর্যাপ্ত।
পাঁচ বছরের দীর্ঘ শুষ্কতা এবং রেকর্ড তাপের প্রভাবে তেহরান পৌরসভার কলগুলো শুকিয়ে যাওয়ার পথে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং জনসাধারণের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। যদি পানি ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত না করা হয়, তাহলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাজধানীর কিছু অংশে ‘ডে জিরো’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এর অর্থ, বাড়ির কল পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাবে এবং পানি সরবরাহ করা হবে স্ট্যান্ডপাইপ বা ট্যাংকারের মাধ্যমে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, এটি কেবল একটি পানি সংকট নয়, বরং পানির দেউলিয়াত্ব, যেখানে অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানি সম্পদের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়েছে।
রাজধানী তেহরান প্রায় এক কোটি মানুষের বাসস্থান এবং শহরটি পানির জন্য পাঁচটি প্রধান বাঁধের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত জুলাইয়ে দেখা গেছে, আমির কাবির বাঁধের জলাধারের কেন্দ্রের পাথরের ঢাল পর্যন্ত পানি শেষ, যা সংকটের তীব্রতা প্রমাণ করে। এই পরিস্থিতি খুজেস্তান, সিস্তান-বেলুচিস্তানসহ অন্যান্য প্রদেশে গণবিক্ষোভের ঝড় সৃষ্টি করেছে।
ইরান সরকার আগামী সাত বছরের জন্য বার্ষিক পানি ব্যবহার ৪৫ বিলিয়ন ঘনমিটার কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে পুনর্ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রিত সেচের মাধ্যমে। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিনিয়োগের ঘাটতি এই লক্ষ্য অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি, জ্বালানি এবং ভূমি ব্যবস্থায় সমন্বিত ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে, তেহরানসহ দেশের বৃহৎ অংশে দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে না।
