ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার জেরে সৃষ্ট চরম উত্তেজনার পর এবার নতুন করে যুদ্ধের পায়তারা চালাচ্ছে পশ্চিমারা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আরেকটি ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মনে করছেন অনেকে। সেরকমই পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছে পশ্চিমারা।
তবে বসে নেই ইরান। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ভালো করেই জানেন ইরানের ওপর আঘাত আসতেই থাকবে। তাই শত্রুদের মোকাবেলা করতে সব নিয়ে প্রস্তুত ইসলামী বিপ্লবের দেশটি।
পশ্চিমাদের চাপ ও ইরানের প্রস্তুতি:
নতুন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরিতে ইরানের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছে আমেরিকা, ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ। নিষেধাজ্ঞা কঠোর করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির মাধ্যমে এই চাপ প্রতিফলিত হচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। পাশাপাশি, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় সিরিয়া, লেবানন, ইরাক এবং ইয়েমেনে প্রভাব বিস্তারে আঞ্চলিক কার্যকলাপ জোরদার করেছে ইরান। এখন উত্তেজনা ধীরে ধীরে কূটনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রকাশ্য হুমকির কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান: ইরান যে নতুন যুদ্ধের আঁচ করতে পেরেছে, তা দেশটির অভ্যন্তরে তাকালে টের পাওয়া যায়। গত জুন মাসের ১২ দিনের সংঘাতের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য কাঠামোতে শুরু হয়েছে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান। বিদেশী প্রভাব দূর করতে চালানো হয়েছে বেশ কয়েকটি গোপন অভিযান।
এই অভিযানগুলোতে এমন ব্যক্তিদের ধরা হয়েছে যারা শত্রুভাবাপন্ন বিদেশী পক্ষগুলোর সাথে সম্পর্ক এবং বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগাযোগ রেখেছিলেন। আটককৃতদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরা ছিলেন যাদের সঙ্গে ইসরায়েলি সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের সংযোগ ছিল বলে জানা গেছে।
নতুন কৌশলগত সংস্থা গঠন: গত ৩ আগস্ট ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ‘প্রতিরক্ষা পরিষদ’ নামে একটি নতুন কৌশলগত সংস্থা গঠনের ঘোষণা দেয়। এর নেতৃত্বে থাকবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। এছাড়া বিচার বিভাগের প্রধান, পার্লামেন্টের স্পিকার, সামরিক কমান্ডার এবং মূল মন্ত্রীরা এতে যুক্ত থাকবেন। এই পরিষদের ম্যান্ডেট হলো— জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা তৈরি করা, সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালন ক্ষমতা বাড়ানো এবং চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতায় একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা কৌশল প্রণয়ন করা।
এদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান আলী লারিজানীকে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা লারিজানী এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। জুলাই মাসের শেষের দিকে তিনি মস্কো সফর করেন এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ শীর্ষ রুশ কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেন।
সামরিক হুঁশিয়ারি: ইরানের সামরিক প্রস্তুতিও নতুন যুদ্ধের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদে বলেন, ১২ দিনের সংঘাতের সময় ইরান তার সবচেয়ে উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করা থেকে বিরত ছিল। এর মধ্যে রয়েছে কাশেমবাসীর মিসাইল। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আবার আক্রমণ করা হয়, তবে তার প্রতিক্রিয়া হবে অপ্রত্যাশিত এবং জোরালো।
