ঢাকা বুধবার ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৫শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রচ্ছদ সর্বশেষ ট্রাম্পের গাজা শান্তি–পরিকল্পনা নিয়ে যা জানালো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ

ট্রাম্পের গাজা শান্তি–পরিকল্পনা নিয়ে যা জানালো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত এক খসড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা সংকট সমাধানে প্রণীত ২০ দফা পরিকল্পনাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) গঠন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে—একাধিক নাম না–জানানো দেশ এই বাহিনীতে troops পাঠাতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

খসড়া প্রস্তাবটির পক্ষে ১৩টি দেশ, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সোমালিয়াসহ—ভোট দেয়। কোন দেশই এর বিপক্ষে ভোট দেয়নি, যদিও রাশিয়া ও চীন ভোটদানে বিরত থাকে।
এদিকে হামাস প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এটি ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও দাবি পূরণে ব্যর্থ এবং গাজায় “আন্তর্জাতিক অভিভাবকত্ব আরোপের” প্রচেষ্টা মাত্র। টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় তারা জানায়, গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীর দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে প্রতিরোধ বাহিনীকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং এটি সংঘাতে এক পক্ষের হয়ে দাঁড়ানোর শামিল।
খসড়া অনুযায়ী, আইএসএফ–এর দায়িত্বের মধ্যে থাকবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র অপসারণ— হামাস—নাগরিক সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা রুট নিরাপদ রাখা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হামাসকে অস্ত্র জমা দিতে হবে, যা ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার অন্যতম শর্ত।

প্রস্তাব অনুসারে আইএসএফ ইসরায়েল ও মিশরের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে। পাশাপাশি গাজায় নতুনভাবে প্রশিক্ষিত একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী গঠনের কথাও বলা হয়েছে, যা এতদিন হামাসের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, আইএসএফ-এর মূল দায়িত্ব হবে গাজা অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সন্ত্রাসী অবকাঠামো ভেঙে ফেলা, অস্ত্র অপসারণ এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের সুরক্ষা দেওয়া।

পরিকল্পনার প্রথম ধাপ—ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের বিনিময়—চলতি বছরের ১০ অক্টোবর কার্যকর হয়। ওয়াল্টজ একে “অত্যন্ত নাজুক একটি প্রথম ধাপ” বলে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় আরও রয়েছে ‘বোর্ড অব পিস’ নামের একটি নতুন কাঠামো গঠন, যার নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্প নিজেই। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় গঠিত একটি ট্রাস্ট ফান্ড।

প্রস্তাবটিতে ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে—যা ইসরায়েলের কড়াল আপত্তির বিষয়। আরব দেশগুলোর চাপের ফলে এই অংশটি যুক্ত করা হয়।

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ায় দুই বছরের সংঘর্ষে স্থবিরতা আসে। ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হয়। পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় ৬৯ হাজার ৪৮৩ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

0 FacebookTwitterPinterestEmail

অনুসন্ধান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

ফেসবুকে আমরা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (তুহিন)

নির্বাহী সম্পাদক

সোনিয়া রহমান

অফিসঃ

৪৯ মতিঝিল (৮ম তলা), শাপলা ভবন, শাপলা চত্বর, ঢাকা - ১০০০

ই-মেইলঃ

rightwayciezs@gmail.com

টেলিফোনঃ

+৮৮ ০১৭১২-৭৭৭ ৩৬৩

মার্কেটিংঃ

+৮৮ ০১৯৪৮- ৯০০ ৯১১

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব rightwaynews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত