প্রথম প্রেমিকের (উঠতি বয়সে) প্রথম জন্মদিনে উপহার দিতে মায়ের কানের দুল চুরি করে বিক্রি করে উপহার কিনেছিলাম। পরেরজনের জন্মদিনে নিজের উপার্জনে অর্থ দিয়ে ল্যাটেস্ট গাড়ী।
পরেরজনের জন্মদিনে প্রথম বাজারে আসা আই ফোন (তখনও বাংলাদেশে আই ফোন যায়নি)
পরেরজনের জন্মদিনে উপহারের আমি স্বয়ং উপস্থিত হয়েছি সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে।
পরেরজনের জন্মদিনে নিয়ে গিয়েছি তার স্বপ্নের দেশে বেড়াতে।
কি, সবাই আমার প্রেমিক গুনছেন? প্রেমিক দিয়ে কি আর সত্যিকারের ভালোবাসা গোনা যায়? সব প্রেম বা প্রেমিক কি সফল? কিংবা এমনও হতে পারে প্রেমিক নিজেও জানতো সে আমার প্রেমিক ছিলো…হাহাহা…সুতরাং মনে মনে বিচার করা থেকে বিরত থাকা শ্রেয়। যাকগে,
সবার বেলাই মূল উপহারের সাথে তাদের পছন্দ অনুযায়ী অন্যান্য উপহার তো অবশ্যই ছিলো ওটার লিস্ট দিলে পুরোপুরি আমাকে মিস ফুটানি বা শো- অফ খেতাব দেয়া হবে তা নিশ্চিত। তবে যেটি আমি ভিতর থেকে সুন্দর অনুভূতির জন্ম দেয় তা হলো, প্রথমজনেরটা বাদে, সবই করা আমার নিজের শ্রমের বিনিময়ে উপার্জন করা অর্থ দিয়ে।
প্রিয়জনের জন্য সারপ্রাইজ তৈরি করার মধ্যেই আমার মহানন্দ লুকানো । আমি নিজের জন্য কিছু করে, ব্যয় করে আনন্দ পাই না, অন্যের চোখে আনন্দ আমাকে আনন্দ দেয়। নিজের জন্য না করতে করতে ভুলে গিয়েছি, ভবিষ্যৎ নামক কিছু আছে। ভবিষ্যতের জন্য আমি কিছু ভাবিনি, ভেবেছি প্রতিদিনের জন্য।
এভাবে ভাবতে ভাবতে সময় যে ফুরিয়ে যাচ্ছে তাও ভাবিনি। অন্যের উপর নির্ভরশীল হতে কখনো শিখিনী, ছোটবেলা থেকেই মা শিখিয়েছে আত্মনির্ভরশীল হতে। কেউ আমাকে বাড়ি- গাড়ী কিনে দিবে কখনো কল্পনায়ও ভাবিনি, সারাক্ষণ ভেবেছি নিজের টাকায় কবে ওগুলো হবে।
আমার উপরের কথা গুলো যদি আত্মপ্রচারের মতো লাগে তাহলে দুঃখিত, কিন্তু ঐটাই ”আমি”।
জীবনে ”আমি” হতে পারা সবচেয়ে বড় যুদ্ধ।
(লেখক: মাকসুদা আক্তার প্রিয়তী, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইরিশ পাইলট, সাবেক মিস আয়ারল্যান্ড ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব)
