ছবিঃ সংগৃহীত
জাপান, যেটি একটি ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ, সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূমিকম্প প্রতিরোধ ও প্রস্তুতির ব্যবস্থা করছে। সরকারের তত্ত্বাবধানে নির্মিত আধুনিক অবকাঠামোতে বিশেষভাবে উন্নত ভূমিকম্প নিরাপত্তা মানদণ্ড ও নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়।
নতুন নির্মিত ভবনগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে তারা কমপক্ষে ৭০ শতাংশ ভূমিকম্পের কম্পন শোষণ করতে পারে।
জাপানি প্রকৌশলীরা “বেস আইসোলেশন” প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, যা ভবনের ভিত্তি ভূমিকম্পের সঙ্গে সমন্বয় করে নড়ে। এর ফলে প্রধান কাঠামো সরাসরি ভূমিকম্পের প্রভাব থেকে রক্ষা পায়। পাশাপাশি, উন্নত প্রযুক্তির সিসমিক সেন্সর বসানো হয়েছে যা ভূমিকম্পের প্রাথমিক লক্ষণ সনাক্ত করে। সেন্সর থেকে প্রাপ্ত তথ্য সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
সরকারি পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জাপানের ভূমিকম্প প্রতিরোধ নীতি কেবল নির্মাণ ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং জরুরি সেবা কেন্দ্রেও এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। বিশেষভাবে, যখন ভূমিকম্পের সতর্কতা পাওয়া যায়, তখন ট্রেন, মেট্রো সিস্টেম এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা মানুষ ও যন্ত্রপাতি দুটোই সুরক্ষিত রাখে।
জাপানের এই উন্নত প্রযুক্তি এবং সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জাপানের উদ্ভাবনী সিসমিক প্রযুক্তি অন্য ভূমিকম্পপ্রবণ দেশের জন্য মূল্যবান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জাপানের অভিজ্ঞতা দেখায়, উচ্চ প্রযুক্তি ও সুপরিকল্পিত নীতির সমন্বয় জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কার্যকর হতে পারে।
