ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সব পারমাণবিক স্থাপনা ‘‘আগের চেয়ে আরও শক্তিশালীভাবে’’ পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। রোববার (২ নভেম্বর) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির পারমাণবিক সংস্থা পরিদর্শনকালে এ ঘোষণা দেন।
এদিকে, তেহরান ও ওয়াশিংটনকে স্থবির কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে দুই দেশের মাঝে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা ওমান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা এখনও স্পষ্ট নয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, “তেহরান ধ্বংসপ্রাপ্ত সব স্থাপনা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালীভাবে নির্মাণ করবে। ভবন ধ্বংস করে আমাদের অগ্রগতি রোধ করা যাবে না। ইরানি বিজ্ঞানীরা এখনও প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্ঞান ও দক্ষতা ধরে রেখেছেন।” তবে তিনি বিস্তারিত আর কোনও তথ্য জানাননি।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগেও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছিলেন, “যদি পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়, তেহরান সেগুলো পুনর্নির্মাণ করবে।”
গত জুনে ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এই হামলার মধ্য দিয়ে ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী সংঘর্ষের সূচনা হয়। হামলায় ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা ছাড়াও আবাসিক এলাকা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ইরানি বিজ্ঞানীও নিহত হন।
হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রও এই সংঘাতে জড়িত হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী ও ইসরায়েলি সৈন্যরা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় একযোগে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করার দাবি জানায়। পরে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।
গত জুলাইয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানে সৃষ্ট ক্ষতি ছিল গুরুতর ও ভয়াবহ।
এবারও ইরানের ঐতিহ্যবাহী মধ্যস্থতাকারী ওমান শনিবার তেহরান ও ওয়াশিংটনকে পুনরায় আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে পেজেশকিয়ান দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দেন।
শুক্রবার বাহরাইনে আয়োজিত আইআইএসএস মানামা সংলাপ সম্মেলনে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আলবুসাইদি বলেন, “আমরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি।”
ইরানের সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, তেহরান কূটনীতি পুনরায় শুরুর বিষয়ে বার্তা পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
চলতি বছর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাঁচ দফা আলোচনার আয়োজন করেছে ওমান। ষষ্ঠ দফা শুরু হওয়ার তিন দিন আগে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয়। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে ‘‘স্ন্যাপব্যাক’’ প্রক্রিয়া চালু করায় এই নিষেধাজ্ঞা ফিরে আসে।
