ছবিঃ সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় টানা ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। শক্তিশালী এক ঝড়ের প্রভাবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসা সূত্র।
গত রাত থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত গাজা জুড়ে বয়ে যাওয়া এই ঝড়টি একটি গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্টি হয়। টানা তৃতীয় দিনের মতো ভারী বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও ব্যাপক জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চল। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া লক্ষাধিক বাস্তুচ্যুত মানুষ।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, গাজা সিটির কেন্দ্রীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিতে দুর্বল হয়ে পড়া একটি দেয়াল ভেঙে পড়লে খাদের ও খলিল ইয়াহাব হানুনা নামে দুই ভাই নিহত হন। দেয়ালটি তাঁদের বসবাসরত তাঁবুর ওপর ধসে পড়ে।
এছাড়া একই সময়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয় ঝড়জনিত কারণে। গাজা সিটির পশ্চিমে শাতি শরণার্থী শিবিরে এক ব্যক্তির বাড়ি ধসে তিনি নিহত হন। অপরদিকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে, বন্যার পানিতে পরিবারের তাঁবু তলিয়ে যাওয়ায় শীত ও ভেজা পরিবেশে অসুস্থ হয়ে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়।
উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আগে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ির অংশ ধসে পড়ে কয়েকজন আহত হন। উদ্ধারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কেউ আটকে থাকতে পারেন।
এদিকে গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, পশ্চিম গাজা সিটির আল-মিনা (বন্দর) এলাকায় প্রবল বাতাসে বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবু ভেঙে পড়লে শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন।
গোটা গাজায় হাজার হাজার পুরোনো ও জীর্ণ তাঁবু পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ব্যক্তিগত মালামাল নষ্ট হয়েছে এবং তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো খান ইউনিসে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে পরিবারগুলোকে সরিয়ে নিয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় না থাকার জন্য বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে।
বৃহস্পতিবার গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে অন্তত আরও তিনটি ভবন ধসে পড়ে।
সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে গাজাজুড়ে বিভিন্ন বাস্তুচ্যুতি শিবিরে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার পরিবার বসবাস করছে। এরা সবাই ঠান্ডা, জলাবদ্ধতা এবং অনিরাপদ আশ্রয়ের মধ্যে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
যদিও গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তবে কর্মকর্তারা বলছেন, গাজায় মানবিক পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। কারণ এখনও উপত্যকাটিতে পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ, যদিও যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে প্রায় দুই মাস আগে।
