ছবিঃ সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েল এক ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহের বিনিময়ে ১৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফিরিয়ে দিয়েছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির অংশ হিসেবেই এ মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
এপি–র খবরে বলা হয়েছে, হামাসের হাতে থাকা অন্তত দুই জিম্মির মরদেহ এখনো ফেরত আসেনি। এদের একজন ইসরায়েলি নাগরিক এবং অন্যজন থাইল্যান্ডের। যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে মরদেহ বিনিময় প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও এই দুজনের মরদেহ এখনও হস্তান্তর করেনি হামাস।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম জানান, তারা মৃত জিম্মিদের মরদেহ ফেরত দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ইসরায়েল অভিযোগ করেছে, ১৩ অক্টোবর শেষ জীবিত জিম্মিদের মুক্তির পর থেকে হামাস ইচ্ছাকৃতভাবে প্রক্রিয়া বিলম্ব করছে। হামাসের ব্যাখ্যা, গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে মরদেহ উদ্ধার করতে সময় লাগছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে মঙ্গলবার কায়রোতে বৈঠক করেছেন তুরস্ক, কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতাকারীরা। ১০ অক্টোবর স্বাক্ষরিত পূর্ববর্তী চুক্তির ধারাবাহিকতায় নতুন পর্যায়ের এই আলোচনায় গাজায় সশস্ত্র আন্তর্জাতিক বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েন, পাশাপাশি অঞ্চলটির শাসন ও পুনর্গঠন দেখভালের জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব তোলা হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি—আইএসএফ গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত ও হামাসকে নিরস্ত্র করার দায়িত্ব পালন করবে।
ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্যভাবে এই বাহিনীতে ২০ হাজার শান্তিরক্ষী পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। তবে যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন, সময়সীমা এবং পক্ষগুলোর সম্ভাব্য লঙ্ঘন নিয়ে নানা প্রশ্ন থেকেই গেছে। তবু সকল অনিশ্চয়তার মধ্যেও নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে।
অন্যদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বড় ধরনের সামরিক অভিযান চলার অভিযোগ তুলেছেন এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা। ইসরায়েল বলছে, তারা “ব্যাপক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান” পরিচালনা করছে; তবে এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রত্যেক জিম্মি উদ্ধারের বিপরীতে ইসরায়েল ১৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দেবে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৪৫ ফিলিস্তিনির মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এদের মধ্যে কারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর মারা গিয়েছিলেন, কারা ইসরায়েলি হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন, আর কাদের গাজা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল—তা স্পষ্ট নয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মাত্র ৯৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। গাজায় ডিএনএ পরীক্ষা–উপকরণের সংকটের কারণে মরদেহ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে।
